কমলগঞ্জে বালুভর্তি ট্রাকের দাপটে সড়কে ধুলার রাজত্ব, অতিষ্ঠ গ্রামবাসী

কমলগঞ্জ প্রতিনিধি:
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার মুন্সীবাজার–মিরতিংগা চাবাগান–ভৈরবগঞ্জ বাজার আঞ্চলিক সড়কটি বালু ব্যবসায়ীদের ট্রাক চলাচলের কারণে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ভারি ট্রাকের চাপে রাস্তার উপরের স্তর উঠে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত। খানাখন্দে ভরা সড়কটি এখন স্থানীয়দের জন্য দুর্ভোগের অন্য নাম।
মুন্সীবাজার থেকে মিরতিংগা চাবাগান পর্যন্ত অংশটি সবচেয়ে নাজুক অবস্থায় রয়েছে। সারাদিন বালুভর্তি খোলা ট্রাক চলাচলের ফলে উড়ন্ত ধুলোবালিতে আশপাশের দোকান, বসতবাড়ি ও পথচারীদের নাকে-মুখে ধুলা ঢুকে পড়ছে। এতটাই ধুলো জমে যে একটি ট্রাক গেলে সামনের দৃশ্য দেখা যায় না—এ যেন ঘন কুয়াশাকেও হার মানিয়েছে।
ধর্মপুর এলাকার পরিস্থিতি আরও করুণ। ধলাই নদীর ধর্মপুর মৌজায় বালুমহাল থাকায় গ্রামের কাঁচা সড়ক দিয়ে চলাই দায়। ঘরবাড়ি—সবকিছু ধুলায় সাদা হয়ে গেছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, দিনে-রাতে শান্তিতে খাওয়া-দাওয়া করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। ধুলার কারণে বহু মানুষ শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি, চোখের সমস্যা ও সর্দিজনিত অসুস্থতায় ভুগছেন।
স্থানীয় জব্বার মিয়া অভিযোগ করেন, “সড়কটি এখন বালু ব্যবসায়ীদের দখলে। খোলা ট্রাকের বেপরোয়া চলাচলে শিক্ষার্থীদের জীবনের ঝুঁকি বেড়েছে।”
মনু মিয়া জানান, “অবাধ ট্রাক চলাচলে নাক-মুখে ধুলা ঢুকে শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যা বাড়ছে।”
এদিকে ১৫ নভেম্বর শনিবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাখন চন্দ্র সূত্রধরের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত ধলাই নদীর ১ম খন্ড ধর্মপুর মৌজায় অবৈধ বালু উত্তোলনের দায়ে দুই ব্যক্তিকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করেন। ৫ দিনের মধ্যে বালু সরানোর নির্দেশনা দেওয়া হলেও ১৫ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো তা সরানো হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। ইজারাদারের প্রতিনিধি বদরুল ইসলাম বিষয়টি উপেক্ষা করছেন বলে জানা গেছে।
উপজেলার ধলাই নদীর বিভিন্ন স্থান থেকে এখনও লিজের বাইরে বালু উত্তোলন চলছে এবং কৃষিজমিতে স্তুপ করে রাখা হচ্ছে। এতে নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ধসে পড়ছে, স্টিলের ব্রিজ হুমকির মুখে, আর একাধিক স্থানে গ্রাম্য রাস্তা ভেঙে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ছে। ড্রেজার মেশিনের উচ্চ শব্দে নিত্যদিন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাখন চন্দ্র সূত্রধর।










