খোলা কাগজে পদোন্নতি পেলেন সাংবাদিক এহসান বিন মুজাহির

নিজস্ব প্রতিবেদক, ভয়েস অব শ্রীমঙ্গল:
দেশের প্রথম সারির অন্যতম জাতীয় দৈনিক খোলা কাগজ পত্রিকায় পদোন্নতি পেয়েছেন শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ ও পত্রিকাটির মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি মো. এহসানুল হক। কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে মৌলভীবাজার জেলার স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে পদোন্নতি দিয়েছে পত্রিকা কর্তৃপক্ষ।
দৈনিক খোলা কাগজের নির্বাহী সম্পাদক মো. মনির হোসেন সোমবার (১২ জানুয়ারি ২০২৬) দুপুরে হোয়াটসঅ্যাপ বার্তার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে পদোন্নতির বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে রোববার রাতে সারা দেশের জেলা প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে তিনি এ ঘোষণা দেন। আগামী ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে এ পদোন্নতি কার্যকর হবে বলে জানানো হয়।
খুব অল্প সময়ের মধ্যেই পেশাগত দক্ষতা, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা ও ধারাবাহিক কর্মতৎপরতার মাধ্যমে পত্রিকা কর্তৃপক্ষের আস্থা অর্জন করেন লেখক ও কলামিস্ট মো. এহসানুল হক (এহসান বিন মুজাহির)।
তিনি ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি দৈনিক খোলা কাগজ পত্রিকায় শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। একই বছরের ২১ মার্চ প্রথম পদোন্নতি পেয়ে মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
ওই পত্রিকায় এক বছরের কর্মজীবনে তার পরিবেশিত প্রতিবেদনগুলো জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি জানান, গত এক বছরে তার করা ৩৭টি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন, ২৬টি বিশেষ প্রতিবেদন, প্রকৃতি ও পরিবেশ বিষয়কসহ বিভিন্ন ধরণের ২২০টি ফিচার নিউজ, ১৮টি কৃষি বিষয়ক ফিচার এবং ১৪০টি কারেন্ট নিউজ খোলা কাগজ-এর প্রিন্ট সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে। এক বছরে মোট ৪৪১টি সংবাদ প্রিন্ট সংস্করণে ছাপা হয়।
তার একাধিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন তদন্ত কমিটি গঠন, শোকজ নোটিশ প্রদান ও জরিমানা আরোপসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এতে উপকৃত হয়েছেন সাধারণ মানুষ ও ভুক্তভোগীরা। সাংবাদিকতার পেশাগত সাফল্য ও দায়বদ্ধতার উৎকৃষ্ট উদাহরণ হিসেবে তার কাজকে মূল্যায়ন করা হচ্ছে।
তবে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে তাকে নানা প্রতিবন্ধকতা, বিব্রতকর পরিস্থিতি এবং তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করতে গিয়ে ব্যক্তিগত অর্থ ব্যয়ের মতো চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছে। এসব প্রতিকূলতার মধ্যেও খোলা কাগজ কর্তৃপক্ষ সবসময় তার পাশে থেকেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক মো. মনির হোসেন সর্বদা তাকে সাহস ও অভয় দিয়েছেন। বার্তা সম্পাদক সফিকুল ইসলাম সবুজ দেশের মধ্যে সর্বাধিক তার প্রেরিত সংবাদ প্রকাশ করে তাকে উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা যুগিয়েছেন। মফস্বল সম্পাদক নুরে জান্নাত সুমি, অনলাইন ইনচার্জ আব্দুল্লাহ আল জাহিদসহ অফিসের অন্যান্য সহকর্মীদের আন্তরিক সহযোগিতায় তার শ্রম, মেধা ও ত্যাগ সার্থক হয়েছে।
এর আগে জাতীয় দৈনিক ও অনলাইন একাধিক গণমাধ্যমে কাজ করলেও খোলা কাগজ-এর মতো অনিয়ম ও দুর্নীতিবিরোধী অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এমন দৃঢ় সমর্থন অন্য কোথাও পাননি বলেও জানান তিনি।
এক প্রতিক্রিয়ায় মো. এহসানুল হক পদোন্নতির জন্য খোলা কাগজ সম্পাদক মহোদয়সহ পুরো খোলা কাগজ পরিবারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। বিশেষভাবে তিনি নির্বাহী সম্পাদক মো. মনির হোসেনের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
সাংবাদিক এহসান বিন মুজাহির একজন নিষ্ঠাবান ও নির্ভীক সাংবাদিক। তিনি দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম-দুর্নীতি ও অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে পেশাদারিত্বের সাথে সাংবাদ প্রকাশ করে আসছেন। এর জেরে একাধিকবার তিনি হুমকি ও হামলার শিকার হয়েছেন। সর্বশেষ গত ২১ ডিসেম্বর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হত্যা করে লাশ গুমের হুমকি দেওয়া হয়।
এছাড়াও সাংবাদিক এহসান একাধারে লেখক-কলামিস্ট ও শিক্ষক। তিনি দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় নিয়মিত উপসম্পাদকীয় কলাম ও ধর্ম-সাহিত্য পাতায় ফিচার লিখেছেন। স্থানীয়- আঞ্চলিক দৈনিক, সাপ্তাহিক পত্রপত্রিকা, ম্যাগাজিনসহ বিভিন্ন দেশি-বিদেশি অনলাইন পোর্টালেও প্রকৃতি, পরিবেশ, কৃষি, সাহিত্য-সংস্কৃতি ও ধর্ম বিষয়ক এবং সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়ে অসংখ্য প্রবন্ধ-নিবন্ধ ছড়া, কবিতা লিখেছেন।
তিনি ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় কুষ্টিয়ার অধিনে ফাজিল এবং আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিনে ঢাকা সরকারি মাদরাসা-ই আলিয়া থেকে কামিল মাস্টার্স ও বিআই ইউ এর অধিনে ইসলামিক স্টাডিজে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন।
এহসান বিন মুজাহির শ্রীমঙ্গল আইডিয়াল স্কুলসহ একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তা ও প্রিন্সিপালের দায়িত্ব পালন করছেন। মৌলভীবাজার জেলা সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশনের।
















