জাতির চিন্তকদের মিলনমেলায় সিলেটে কওমি কনফারেন্স

শিব্বীর বিন রশীদ, সিলেট প্রতিনিধি:
সিলেটে প্রথমবারের মতো মহাসমারোহে অনুষ্ঠিত হলো ঐতিহাসিক “কওমি কনফারেন্স”। গতকাল বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) বিকাল ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত নগরীর রিকাবি বাজারস্থ কবি নজরুল অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এ মহাসমাবেশে দেশবরেণ্য আলেম-ওলামা, গবেষক ও চিন্তকরা অংশ নেন।
এ কনফারেন্সের আয়োজন করে সম্মিলিত কওমি ফোরাম। ফোরামের সভাপতি মাওলানা আহমদ কবির খলিলের সভাপতিত্বে এবং কবি মীম সুফিয়ানের সঞ্চালনায় কনফারেন্সের উদ্বোধনী বক্তব্য দেন শায়খুল হাদিস হাবিবে রব্বানী। তিনি কওমি শিক্ষার গুরুত্ব, আত্মপরিচয় রক্ষা ও উলামায়ে কেরামের দায়িত্ব নিয়ে তাৎপর্যপূর্ণ আলোচনা করেন।
প্রধান আলোচনায় প্রখ্যাত আলেম ও লেখক মাওলানা হেমায়েত উদ্দিন বলেন, “শিক্ষা ও আত্মগঠনই প্রকৃত নেতৃত্বের ভিত্তি। আত্মশুদ্ধির মাধ্যমেই কওমি তরুণরা ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের যোগ্যতা অর্জন করবে।”
মাওলানা সালমান আহমদ তার বক্তব্যে ইসলামি মনোবিজ্ঞানের সামাজিক প্রভাবের কথা তুলে ধরে বলেন, “এটি শুধু তাত্ত্বিক বিষয় নয়; সমাজ গঠনে অপরিহার্য হাতিয়ার, যা নতুন প্রজন্মকে সঠিক পথে পরিচালিত করবে।”
মাওলানা আতাউল হক জালালাবাদী বলেন, “উস্তাদ-শাগরীদের মধুর সম্পর্কই কওমি শিক্ষার প্রাণশক্তি, যা ঐতিহ্য রক্ষায় মূল ভূমিকা রাখে।”
কওমি শিক্ষার সংস্কার প্রসঙ্গে মুফতি রিদওয়ান হাসান বলেন, “সংস্কার সময়ের দাবি, তবে তা হতে হবে পরিমিত ও চিন্তাশীল। মূল ঐতিহ্য অক্ষুণ্ণ রেখেই কার্যকর সংস্কার সম্ভব।”
আবেগঘন বক্তব্যে মাওলানা রুহুল আমীন সাদী বলেন, “কওমের জন্য কওমিয়ানদের আত্মত্যাগ অবিস্মরণীয়। এ চেতনা আমাদের প্রেরণার উৎস হয়ে নতুন প্রজন্মকে সর্বদা অনুপ্রাণিত করবে।”
এছাড়াও কনফারেন্সে বক্তব্য রাখেন শায়খুল হাদিস আব্দুল বছির, মাওলানা মুসলেহ উদ্দিন রাজু গহরপুরী, মাওলানা জয়নাল আবেদিন, শায়খুল হাদিস নজরুল ইসলাম কাসেমি, মাওলানা শাহ মমশাদ আহমদ, মুফতি মুজাহিদুল ইসলাম শ্রীমঙ্গলী, মাওলানা এহতেশাম ক্বাসেমি, মাওলানা নুমানুল হক চৌধুরী, মাওলানা সা’দ আমিন হামিদী, মাওলানা ফখরুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট মাওলানা মাহমুদুল হাসান, মাওলানা হাবীব আহমদ শিহাব, মাওলানা আব্দুল জলিল ফরিদী, মাওলানা আহমদ ছগীর, মুফতি জিয়াউর রহমান, মাওলানা আব্দুল হান্নান, মাওলানা ফয়জুর রহমান, মাওলানা ফরহাদ আহমদ, মাওলানা ইমদাদুল হক নোমানী, মাওলানা সাঈদ আহমদ ও মাওলানা মঞ্জুর আহমদ প্রমুখ।
মহান আল্লাহর দরবারে দোয়া ও রোনাজারির মাধ্যমে কনফারেন্সের সমাপ্তি ঘটে।






















