শ্রীমঙ্গলে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯.৫ ডিগ্রি, বইছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ

স্টাফ রিপোর্টার, ভয়েস অব শ্রীমঙ্গল:
চায়ের রাজধানীখ্যাত মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। রোববার (৪ জানুয়ারি) ভোর ৬টায় শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র ৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করে। একই সঙ্গে এলাকায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। হঠাৎ তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা, সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন নিম্ন আয়ের ও শ্রমজীবী মানুষ।
হিমেল হাওয়ার কারণে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন চা বাগানের শ্রমিক, কৃষক ও ছিন্নমূল মানুষেরা। তীব্র ঠান্ডা উপেক্ষা করেই সকাল থেকে কাজে বের হতে হচ্ছে চা শ্রমিক ও দিনমজুরদের। পর্যাপ্ত গরম কাপড়ের অভাবে তারা চরম দুর্ভোগে রয়েছেন।
চা শ্রমিকরা জানান, ভোরের ঠান্ডায় কাজ করা অত্যন্ত কষ্টকর। তবে পরিবারের জীবিকার কথা ভেবেই বাধ্য হয়ে এই ঠান্ডার মধ্যেও কাজে যেতে হচ্ছে। শিশু ও বৃদ্ধদের কষ্ট বেশি শ্রীমঙ্গল শহর ও আশপাশের এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, হঠাৎ তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় শিশু ও বৃদ্ধরা বেশি কষ্ট পাচ্ছেন। সন্ধ্যার পর থেকে কনকনে ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে। ঠান্ডার সঙ্গে হিমেল বাতাস যোগ হওয়ায় শ্রমজীবী ও ছিন্নমূল মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। ভোরের কুয়াশা ও ঠান্ডার কারণে কৃষকরাও মাঠে কাজ করতে পারছেন ধীরগতিতে।
শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে শীতজনিত রোগ। শ্রীমঙ্গল উপজেলায় ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, কাশি, শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে। প্রতিদিনই শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শিশু ও বয়স্ক রোগীদের ভর্তি করা হচ্ছে।
এদিকে গরম কাপড়ের দোকানগুলোতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের ভিড় বাড়ছে।
শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের কর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমান জানান, শ্রীমঙ্গলে সর্বনিম্ন ৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। এলাকায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বইছে। আগামীকালও শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে, তবে ধীরে ধীরে তাপমাত্রা কিছুটা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি আরও জানান, মৃদু শৈত্যপ্রবাহের কারণে দিনের বেলায় রোদ না থাকায় শীতের তীব্রতা বেশি অনুভূত হচ্ছে।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইসলাম উদ্দিন জানান, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে উপজেলায় ইতোমধ্যে ১ হাজার ৯৬৯টি কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। আরও চাহিদা পাঠানো হয়েছে। পর্যায়ক্রমে পৌরসভার সব ওয়ার্ড ও ইউনিয়নের অসহায় ও দরিদ্র মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হবে।
আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, ১৯৬৮ সালে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় দেশের দ্বিতীয় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছিল।















