সুনামগঞ্জে আলেম হত্যার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল

নিজস্ব প্রতিবেদক, সুনামগঞ্জ:
সুনামগঞ্জের বিশিষ্ট আলেম, বড়মোহা মাদরাসা শান্তিগঞ্জের মুহতামিম, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের নির্বাহী সদস্য ও সুনামগঞ্জ জেলা জমিয়তের সহ-সভাপতি মাওলানা মুশতাক আহমদ গাজীনগরীকে নৃশংসভাবে হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টায় উলামা পরিষদ জয়নগর বাজারের উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়। কয়েকশত মানুষের অংশগ্রহণে বের হওয়া মিছিলটি জয়নগর বাজারের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে বাজারের শেটঘরের সামনে এক সংক্ষিপ্ত প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
উলামা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আবদুর রহমান কফিলের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সরদারপুর মহিলা মাদরাসার মুহতামিম মুফতি আব্দুল মালিক, উলামা পরিষদের উপদেষ্টা হাফিজ মাওলানা খলিল আহমদ এবং পরিষদের সভাপতি মাওলানা কামরুল হক।
বক্তারা বলেন, “মাওলানা মুশতাক গাজীনগরী সুনামগঞ্জের বরেণ্য আলেম ও জমিয়তের কেন্দ্রীয় নেতা ছিলেন। তিনি বিনয়ী, সদালাপী ও সকলের প্রিয় মানুষ ছিলেন। এমন একজন মহৎ মানুষকে গুম করে হত্যা করা জাতির জন্য অশনিসংকেত।” তারা দ্রুত সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত খুনিদের শনাক্ত করে গ্রেফতার ও সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দাবি জানান। বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এ ঘটনায় সঠিক বিচার না হলে সারা সুনামগঞ্জ জেলায় আন্দোলনের দাবানল ছড়িয়ে পড়বে, যার দায়ভার প্রশাসনকেই নিতে হবে।
অবশেষে পরিষদের উপদেষ্টা মাওলানা মাহমুদ হোসাইনের দোয়ার মাধ্যমে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
উল্লেখ্য, গত ২ সেপ্টেম্বর রাত ১১টার দিকে সুনামগঞ্জ শহর থেকে নিজ বাড়ি গাজীনগরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন মাওলানা মুশতাক গাজীনগরী। রাত ১১টা ২০ মিনিটের দিকে তাকে দিরাই রোড পয়েন্টে দেখা যায় বলে সেখানকার মসজিদের ইমাম মাওলানা আবদুর রাজ্জাক জিহাদী নিশ্চিত করেন। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ হন এবং তার ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়। পরদিন সকাল থেকে এলাকায় নিখোঁজের খবর ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন সময় মিছিল-মিটিংয়ের মাধ্যমে তাকে উদ্ধারের দাবিও জানানো হয়।
অবশেষে ৫ সেপ্টেম্বর সকালে শান্তিগঞ্জ উপজেলার শরীফপুর গ্রামের ইটভাটার পাশে নদীতে স্থানীয়রা তার লাশ ভাসতে দেখে পুলিশে খবর দেন। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে এবং এটি মাওলানা মুশতাক গাজীনগরীর মরদেহ বলে নিশ্চিত হয়। সেদিন রাত ৮টা ৩০ মিনিটে দরগাহপুর মাদরাসা মাঠে মাওলানা নূরুল ইসলাম খানের ইমামতিতে জানাজা শেষে তাকে গ্রামের কবরস্থানে দাফন করা হয়। এখনো ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট পাওয়া যায়নি।






















