নিজস্ব প্রতিবেদক, ভয়েস অব শ্রীমঙ্গল:
কাদাপানি, বিশালাকার খানাখন্দ আর জনদুর্ভোগের এক চরম চিত্র মৌলভীবাজারের পর্যটনকেন্দ্রিক শ্রীমঙ্গলের রাধানগর-মোহাজেরাবাদ সড়কে। পৌনে ৬ কোটি টাকা বরাদ্দের ‘গ্রাম সড়ক পুনর্বাসন প্রকল্প’ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ঠিকাদারের চরম অবহেলা ও দীর্ঘসূত্রতায় কাজের অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে মাত্র ২০ শতাংশে। মাসের পর মাস কাজ বন্ধ থাকায় হাজারো মানুষের নিত্যদিনের যাতায়াত এখন মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুরে অবিলম্বে টেকসই সড়ক নির্মাণের দাবিতে ‘পিচের মুখ’ (গ্র্যান্ড সুলতান সংলগ্ন) এলাকায় বালিশিরা পাহাড় সর্বস্তরের জনগণ ও এলাকাবাসীর ব্যানারে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে রাধানগর, বিষামনি ও মোহাজেরাবাদ এলাকার হাজারো বাসিন্দা অংশ নেন।
সরেজমিনে প্রকল্প এলাকায় দেখা যায়, পুরো সড়ক জুড়ে গর্ত ও কাদা-পানির আধিপত্য। সড়কটির বেহাল দশার কারণে মুমূর্ষু রোগী কিংবা অন্তঃসত্ত্বা নারীদের হাসপাতালে পৌঁছানো এখন জীবন-মরণের লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে।
শুধু যোগাযোগই নয়, স্থানীয় অর্থনীতিতেও নেমে এসেছে ধস। সড়ক সংস্কার না হওয়ায় সময়মতো চা-পাতা কারখানায় পৌঁছাতে না পেরে কোটি টাকার আর্থিক লোকসানের মুখে পড়েছেন চা-বাগান মালিকরা। অন্যদিকে পরিবহন খরচ দ্বিগুণ গুণতে গিয়ে দিশেহারা রাধানগরের আনারস ও লেবু চাষিরা।
মানববন্ধন থেকে পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো— বন্ধ থাকা নির্মাণকাজ অবিলম্বে পুনরায় চালু করে দ্রুততম সময়ে শেষ করা; কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করে টেকসই সড়ক নির্মাণ; সড়কের দীর্ঘস্থায়িত্বের স্বার্থে পর্যাপ্ত ড্রেন ও কালভার্ট নির্মাণ করে পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা রাখা; মূল কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত চরম খানাখন্দগুলো জরুরি ভিত্তিতে ভরাট করে চলাচলের উপযোগী করা; প্রধান সড়ক বন্ধ থাকার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত বিকল্প পথগুলো দ্রুত মেরামত করা।
স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, সমস্যা সমাধানের জন্য উপজেলা এলজিইডি কর্মকর্তা ও ইউএনওর দ্বারস্থ হয়েও কোনো সুফল পাননি। বাধ্য হয়েই তারা রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছেন।
মৌলভীবাজার এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্র জানায়, বরিশালের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স কোহিনুর এন্টারপ্রাইজ (প্রোপ্রাইটর : মেহেদী হাসান চৌধুরী) প্রায় ৬ কিলোমিটার সড়ক পুনর্বাসনের কার্যাদেশ পায়। চুক্তি অনুযায়ী গত ১৫ এপ্রিল কাজ শুরু করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পুরো কাজ বুঝিয়ে দেওয়ার স্পষ্ট বাধ্যবাধকতা ছিল। কিন্তু কাজ শুরু হওয়ার কিছুদিন পরেই রহস্যজনকভাবে কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের চরম গাফিলতির বিষয়ে শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রকৌশলী মো. আবদুর রাকিব বলেন, ‘প্রকল্পের মাত্র ২০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। দীর্ঘদিন কাজ ফেলে রেখে জনদুর্ভোগ সৃষ্টির দায়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে শোকজ করা হয়েছে। তিনি যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গ্রহণযোগ্য কোনো পরিকল্পনা জমা না দেন, তবে জামানত বাজেয়াপ্তকরণসহ তাকে কালো তালিকাভুক্ত (ব্ল্যাকলিস্ট) করার চূড়ান্ত সুপারিশ পাঠানো হবে। প্রয়োজনে চুক্তি বাতিল করে পুনরায় দরপত্রের মাধ্যমে নতুন ঠিকাদার নিয়োগ করা হবে।’
এ দিকে জনদুর্ভোগ লাঘবে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিয়াউর রহমান জানান, এলজিইডির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা হয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিকল্প প্রক্রিয়ায় বাকি কাজ শেষ করার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি জনগণের সাময়িক চলাচলের সুবিধার্থে অতি দ্রুত সড়কটির খানাখন্দ মেরামতের কাজ শুরু করা হবে।
প্রধান সম্পাদক এহসান বিন মুজাহির, সম্পাদক ও প্রকাশক মুস্তাকিম আল মুনতাজ তালুকদার
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয় : আইটিসিজি, হাজী এলেমান কবির মার্কেট (২য় তলা) কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। বার্তা ও বিজ্ঞাপন: +৮৮০-১৬০১-৬০৮৬৮৮; ই-মেইল: voiceofsreemangal24@gmail.com
Copyright © 2026 voiceofsreemangal. All rights reserved.