স্টাফ রিপোর্টার, ভয়েস অব শ্রীমঙ্গল:

মৌলভীবাজার–৩ (সদর–রাজনগর) আসনে ১০ দলীয় ঐক্য সমর্থিত প্রার্থী সাবেক রাজনগর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা আহমদ বিলাল–এর একটি ভয়েস বার্তাকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট একটি পক্ষ ওই বার্তাকে ‘গোপন ভয়েস রেকর্ড ফাঁস’ হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করছে। তবে ভয়েসটি মনোযোগ দিয়ে শুনলে সেখানে কোনো গোপন বক্তব্য বা ভিন্ন ইঙ্গিত পাওয়া যায় না; বরং এতে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান, সরলতা ও জোটগত অঙ্গীকারের প্রতিফলনই স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

জানা গেছে, মাওলানা আহমদ বিলাল তাঁর নিজ দলের কর্মীদের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে ওই ভয়েস বার্তাটি প্রদান করেন। বার্তাটির প্রেক্ষাপট ছিল মৌলভীবাজার–৩ আসনে ১০ দলীয় জোটের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান–এর প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করা। এর ফলে যে রাজনৈতিক জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে, তা মূলত নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিএনপির প্রার্থীর জন্য সুবিধাজনক পরিস্থিতি তৈরি করছে—এমন আলোচনাই তখন চলছিল।

এই প্রেক্ষাপটে খেলাফত মজলিসের কিছু কর্মী ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে মত দেন যে, এমন পরিস্থিতিতে আহমদ বিলাল চাইলে বিএনপিকে সমর্থন দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে পারেন। এসব বক্তব্য থেকেই কর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও অস্থিরতা দেখা দেয়।

কর্মীদের সেই ক্ষোভ ও বিভ্রান্তি প্রশমিত করতেই মাওলানা আহমদ বিলাল ভয়েস বার্তাটি দেন। সেখানে তিনি অত্যন্ত শান্ত ও সহজ ভাষায় বলেন, জামায়াতের প্রার্থী কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে মাঠে থাকায় তারা হয়তো ভোটের হিসাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন; কিন্তু সে কারণেই বিএনপিকে সমর্থন করা বা জোটের সিদ্ধান্ত ভাঙা কোনোভাবেই সমীচীন নয়। তিনি জানান, জোটের সঙ্গে করা অঙ্গীকার অনুযায়ী তাঁরা নিজেদের অবস্থান থেকেই রাজনৈতিক কার্যক্রম চালিয়ে যাবেন।

ভয়েস বার্তায় তিনি আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে বড় দলগুলো নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতায় ব্যস্ত থাকলেও খেলাফত মজলিস নীরবে ও ধারাবাহিকভাবে মাঠে কাজ করে যাবে। এমনকি নির্বাচনে প্রত্যাশিত ফল না এলেও তিনি জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করবেন না এবং ১০ দলীয় ঐক্যের সঙ্গে করা ওয়াদা থেকে সরে আসবেন না—এই প্রতিশ্রুতিই তিনি কর্মীদের সামনে পুনর্ব্যক্ত করেন।

ভয়েসটি পর্যালোচনা করলে স্পষ্ট হয়, এতে কোনো উসকানিমূলক বক্তব্য বা গোপন পরিকল্পনার ইঙ্গিত নেই। বরং একজন দায়িত্বশীল রাজনৈতিক নেতার পক্ষ থেকে কর্মীদের ধৈর্য ধারণ ও নীতিগত অবস্থানে অবিচল থাকার আহ্বানই এতে প্রতিফলিত হয়েছে।
তবে এই শান্ত ও সান্ত্বনামূলক বক্তব্যকেই ‘গোপন ভয়েস রেকর্ড ফাঁস’ আখ্যা দিয়ে একটি পক্ষ সামাজিক মাধ্যমে নেতিবাচক ব্যাখ্যা ছড়াচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সচেতন মহলের মতে, বাস্তবতা হলো—মাওলানা আহমদ বিলাল চাইলে সহজেই ভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে অন্য জোটকে সুবিধা দিতে পারতেন। রাজনগর উপজেলায় সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে তাঁর ব্যক্তিগত প্রভাব ও ভোটব্যাংক রয়েছে। কিন্তু তিনি সে পথে না গিয়ে জোটগত সিদ্ধান্ত ও নীতিগত অবস্থানকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন।

স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এই পুরো ঘটনাপ্রবাহ থেকে বোঝা যায়, সংশ্লিষ্ট ভয়েস বার্তাটি কোনো ষড়যন্ত্রমূলক বা গোপন আলাপ নয়; বরং তা একটি রাজনৈতিক সংকটে কর্মীদের দায়িত্বশীলভাবে সামাল দেওয়ার প্রচেষ্টা। বিষয়টি নিয়ে চলমান বিভ্রান্তি ও অতিরঞ্জিত ব্যাখ্যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে বলেও তারা মনে করছেন।