হিফজুর রহমান ফাহাদ

শিক্ষার গুণগত মানের বিচারে রাজধানী ঢাকা নিঃসন্দেহে শ্রেষ্ঠত্বের আসনে অধিষ্ঠিত। তবে মুদ্রার উল্টো পিঠ হলো—ঢাকার যান্ত্রিক জীবন, দূষিত বাতাস এবং আকাশচুম্বী জীবনযাত্রার ব্যয় একজন শিক্ষার্থীর জন্য অনুকূল নয়। ঠিক এই জায়গাতেই সিলেট হতে পারতো অনন্য এক বিকল্প। নিসর্গশোভিত প্রকৃতি, নির্মল বাতাস আর মানুষের আন্তরিকতা—সব মিলিয়ে পড়াশোনার জন্য সিলেটের মতো আদর্শ পরিবেশ খুব কমই আছে।

​তবে প্রশ্ন জাগে, সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও আমরা পিছিয়ে কেন?

সমস্যাগুলো আমাদের অজানা নয়, বরং জানাশোনা সংকটে আমরা এক প্রকার স্থবির হয়ে আছি। যদি এখনই কার্যকর সমাধান বের করা না যায়, তবে সিলেটের মেধাবী শিক্ষার্থীরা আরও বেশি ঢাকামুখী হবে। শুধু তাই নয়, এর ফলে স্থানীয় আলেম ও উস্তাদদের কদর ও প্রভাব ক্রমশ ম্লান হতে থাকবে।

​এই সংকট থেকে উত্তরণে এবং সিলেটকে একটি আদর্শ শিক্ষা-হাব হিসেবে গড়ে তুলতে কিছু সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া অপরিহার্য:

​১. ঢাকার মাদরাসাগুলোর কঠোর নিয়মাবলি, সুশৃঙ্খল আইনকানুন এবং আধুনিক ব্যবস্থাপনা পদ্ধতিকে সিলেটে মডেল হিসেবে গ্রহণ করা যেতে পারে। প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলার অভাব দূর হলে শিক্ষার মান অর্ধেক এমনিতেই নিশ্চিত হয়ে যাবে।

​২. মেধাবী উস্তাদরা যখন আর্থিক সংকটে ভোগেন, তখনই তারা বিদেশমুখী হন কিংবা পেশার প্রতি আগ্রহ হারান। তাদের জন্য মানসম্মত সম্মানীর পাশাপাশি যথাযথ মূল্যায়ন করা আবশ্যক। পাশাপাশি উস্তাদরা চাইলে পাঠদানের পাশাপাশি খণ্ডকালীন কাজের সুযোগ পেতে পারেন। আর যদি সম্ভব হয়, মাদরাসা কর্তৃপক্ষের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় উস্তাদদের সমন্বয়ে কোনো ব্যবসায়িক প্রকল্প গড়ে তোলা যেতে পারে। এতে যেমন প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ভিত্তি মজবুত হবে, তেমনি উস্তাদদের জীবনযাত্রায় আসবে সচ্ছলতা।

​৩. সিলেটের মাদরাসাগুলোতে নিয়মশৃঙ্খলার প্রশ্নে আরও আপসহীন হওয়া প্রয়োজন। প্রশাসনিক কঠোরতা আর একাডেমিক তদারকি বাড়লে শিক্ষার পরিবেশ আরও উন্নত হবে। এ বিষয়ে নীতি-নির্ধারক ও মুরব্বিদের আরও গভীরভাবে চিন্তাভাবনা করা এবং কার্যকর সংলাপ শুরু করা এখন সময়ের দাবি।

​মোটকথা— সিলেটের প্রাকৃতিক পরিবেশ শরীর ও মনের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ। থাকা-খাওয়ার সুবিধা এবং প্রশান্তিময় আবহে পাঠদান ও গ্রহণের যে সুযোগ এখানে রয়েছে, তা ঢাকার চেয়ে বহুগুণ শ্রেষ্ঠ। এই প্রাকৃতিক সম্পদকে পুঁজি করে যদি আমরা আধুনিক ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে পারি, তবে সিলেট খুব দ্রুতই দেশের অন্যতম প্রধান বিদ্যাপীঠে পরিণত হবে ইনশাআল্লাহ।

তাই আমাদের লক্ষ্য হোক একটাই—সিলেটের প্রকৃতিতে গড়ে উঠুক জ্ঞানের এক প্রাণবন্ত উদ্যান। আল্লাহ আমাদের সবাইকে সুমতি দান করুন। আমিন।

লেখক: শিক্ষার্থী, জামিয়াতুল মা’আরিফ আল ইসলামিয়া, ঢাকা।