নিজস্ব প্রতিবেদক, ভয়েস অব শ্রীমঙ্গল:

আল-খলীল কুরআন শিক্ষাবোর্ড বাংলাদেশের ১৪তম কেন্দ্রীয় পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। পরীক্ষায় পাশের হার ৮৯.৩০ শতাংশ পরীক্ষার্থী পাশ করেছে।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের বরুণায় অবস্থিত বোর্ডের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সনদ, খামিস ও রাবে জামাতের ফলাফল প্রকাশ করা হয়।

বোর্ডের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মাওলানা রশিদ আহমদ হামিদীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ফলাফল ঘোষণা করেন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাওলানা মুহাম্মদ আব্দুল গফুর কবীর।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বোর্ডের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি মুফতি জহির উদ্দীন কাসিমী, মাওলানা সাইফুর রহমান, মাওলানা হিলাল আহমদ হেতিমগঞ্জি, সহসাধারণ সম্পাদক মাওলানা আব্দুর রহমান শরিফপুরী, সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাওলানা সাব্বির আহমদ, অফিস সম্পাদক মাওলানা আব্দুস সামাদ আল আযাদ, মিডিয়া সম্পাদক মাওলানা মাহফুজুর রহমান হুজাইফা, সহ-মিডিয়া সম্পাদক মাওলানা আব্দুল কাদির প্রমুখ।

বোর্ড সূত্র জানায়, গত রমজানে দেশব্যাপী ৯৬টি পরীক্ষার মারকাযে সনদ, খামিস ও রাবে জামাতের ৪৪৭টি কেন্দ্রের মোট ৫ হাজার ৯৩৯ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন। এর মধ্যে সনদ জামাতে পরীক্ষার্থী ছিলেন ১ হাজার ২৮০ জন, খামিস জামাতে ২ হাজার ১২৪ জন এবং রাবে জামাতে ২ হাজার ৩১৬ জন।

ফলাফলে দেখা যায়, সনদ জামাতে মোট ১ হাজার ২১৩ জন শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন। এ জামাতে মুমতায পেয়েছেন ২৭৭ জন, প্রথম বিভাগে ৪২২ জন, দ্বিতীয় বিভাগে ৩৪৫ জন এবং তৃতীয় বিভাগে ১৬৯ জন। সনদ জামাতে পাশের হার ৯৪ দশমিক ৭৬ শতাংশ।

খামিস জামাতে উত্তীর্ণ হয়েছেন ১ হাজার ৮৭০ জন। এ জামাতে মুমতায পেয়েছেন ৩৭৬ জন, প্রথম বিভাগে ৬০৩ জন, দ্বিতীয় বিভাগে ৫৬৪ জন এবং তৃতীয় বিভাগে ২৭ জন। খামিস জামাতে পাশের হার ৮৮ দশমিক ০৪ শতাংশ।

রাবে জামাতে উত্তীর্ণ হয়েছেন ২ হাজার ২৫ জন। এ জামাতে মুমতায পেয়েছেন ৪১৩ জন, প্রথম বিভাগে ৬৩৫ জন, দ্বিতীয় বিভাগে ৬৫৮ জন এবং তৃতীয় বিভাগে ৩১৯ জন। রাবে জামাতে পাশের হার ৮৭ দশমিক ৪৪ শতাংশ।

আল-খলীল কুরআন শিক্ষা বোর্ড বাংলাদেশ-এর কেন্দ্রীয় উপদেষ্টামণ্ডলীর অন্যতম উপদেষ্টা এবং বরুণা মাদরাসার সদর নায়েবে মুহতামিম মাওলানা শেখ নূরে আলম হামিদী বলেন, সর্বসাধারণের জন্য কুরআন শিক্ষাকে সহজতর করা এবং কুরআনের আলোকে সমাজ, ব্যক্তি ও পরিবার গঠনের মাধ্যমে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যেই ২০১১ সালে আল-খলীল কুরআন শিক্ষা বোর্ড বাংলাদেশ-এর যাত্রা শুরু হয়।

তিনি জানান, আলহামদুলিল্লাহ, বর্তমানে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় অভিজ্ঞ শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মাধ্যমে পরিচালিত সহস্রাধিক কেন্দ্রে প্রতি বছর প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার ছাত্র-ছাত্রী সহিশুদ্ধভাবে কুরআনের শিক্ষা গ্রহণ করে আসছেন। পরীক্ষায় ভালো ফলাফলের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের আমল-আখলাকের উন্নতি হোক এবং মা-বাবা ও ওস্তাদের দোয়ায় তারা জীবনে আরও এগিয়ে যাক—এ কামনাও করেন তিনি।

এদিকে বোর্ডের প্রতিষ্ঠাতা ও কেন্দ্রীয় সভাপতি, বরুণা মাদরাসার প্রিন্সিপাল ক্বারী মাওলানা শেখ বদরুল আলম হামিদী বলেন, “আলহামদুলিল্লাহ, এ বছর আমাদের বোর্ডের ফলাফল সন্তোষজনক হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, সুষ্ঠুভাবে কেন্দ্র পরিচালনায় দেশ-বিদেশ থেকে যারা অনুদানসহ বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছেন, তাদের প্রতি তিনি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে শিক্ষার্থী, অভিভাবক, প্রশিক্ষক, পরিদর্শকসহ বোর্ডের সকল কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।