তালহা হামিদী
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলাধীন কালাপুর ইউনিয়ন যেন আজ এক অবহেলিত জনপদে পরিণত হয়েছে। ভারি বৃষ্টিপাত ও জ্বালানি সংকটের অজুহাতে টানা চার দিন ধরে পুরো ইউনিয়নে বিদ্যুৎ নেই, অথচ দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ বা দৃশ্যমান উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।
বিদ্যুৎ না থাকায় হাজারো মানুষ অন্ধকারে মানবেতর জীবনযাপন করছে। রাত নামলেই পুরো এলাকা অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে। ঘরে ঘরে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। সবচেয়ে বড় সংকট তৈরি হয়েছে খাবারের পানি নিয়ে। বিদ্যুৎচালিত মোটর বন্ধ থাকায় অনেক পরিবার পানি তুলতে পারছে না। রান্না, গোসল, শিশুদের পরিচর্যা ও দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় কাজগুলো হয়ে উঠেছে প্রায় অসম্ভব।
এদিকে মোবাইল নেটওয়ার্ক দুর্বল বা নেই বললেই চলে, ফলে জরুরি যোগাযোগেও সমস্যা দেখা দিয়েছে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পরীক্ষার প্রস্তুতিতে থাকা শিক্ষার্থীরা আলো না থাকায় পড়তে পারছে না, অনলাইন ক্লাস কিংবা জরুরি পড়াশোনাও বন্ধ হয়ে গেছে।
সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ রোগীরা। গরম ও অন্ধকারে ছোট শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়ছে, বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের দিন কাটছে চরম কষ্টে। এমন পরিস্থিতিতে এলাকাবাসী এখন আতঙ্কিত ও অতিষ্ঠ।
অথচ সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো— পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে কল দিলে ফোন রিসিভ পর্যন্ত করা হয় না। এটি জনগণের প্রতি চরম অবহেলা ও দায়িত্বহীনতার বহিঃপ্রকাশ। প্রশ্ন হলো—জনগণের টাকায় পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান কি জনগণের সেবা দেওয়ার জন্য, নাকি জনগণকে ভোগান্তিতে ফেলার জন্য?
চার দিন ধরে একটি পুরো ইউনিয়ন অন্ধকারে ডুবে আছে, কিন্তু এখনো কার্যকর কোনো সমাধান নেই। এই নীরবতা ও উদাসীনতা জনগণের সঙ্গে চরম অন্যায় এবং দায়িত্বহীনতার পরিচয়।
আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই—আর অবহেলা নয়, আর আশ্বাস নয়। অতিদ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করতে হবে এবং কেন এতদিন জনগণকে এই দুর্ভোগে রাখা হয়েছে তার জবাব দিতে হবে। প্রয়োজন হলে কালাপুর ইউনিয়নের জনগণ শান্তিপূর্ণভাবে রাজপথে নামতে বাধ্য হবে। কারণ জনগণের ন্যায্য অধিকার আদায়ে নীরব থাকা আর সম্ভব নয়। মাননীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছি।