বিনোদন প্রতিবেদক, ভয়েস অব শ্রীমঙ্গল:
চায়ের রাজধানী শ্রীমঙ্গল-এর সৌন্দর্য নিয়ে গাওয়া একটি গানের শুটিং করতে ঢাকা থেকে ট্রেনে করে শ্রীমঙ্গল সফরে আসেন দেশের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী আসিফ আকবর।
শ্রীমঙ্গল ভ্রমণের অভিজ্ঞতা নিয়ে গতকাল নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি দীর্ঘ স্ট্যাটাস দেন তিনি। সেখানে ট্রেন যাত্রার সৌন্দর্যের পাশাপাশি দেশের রেলব্যবস্থা, সামাজিক বৈষম্য, চা শ্রমিকদের জীবনমান এবং মাদক কারবার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এই শিল্পী।
স্ট্যাটাসে আসিফ আকবর লিখেন, সাধারণ মানুষের জন্য ট্রেনই সবচেয়ে আরামদায়ক ও সাশ্রয়ী গণপরিবহন। সীমিত জনবল নিয়েও বাংলাদেশ রেলের ব্যবস্থাপনাকে তিনি “একধরনের বিস্ময়” বলে উল্লেখ করেন। জয়ন্তিকা এক্সপ্রেসের বিভিন্ন স্টেশনে থামা এবং মানুষের ওঠানামার দৃশ্য তার ভালো লাগলেও পরিচ্ছন্নতার ক্ষেত্রে যাত্রীদের দায়িত্বহীনতাকেই বড় সমস্যা হিসেবে তুলে ধরেন তিনি।
স্টেশনে অসহায় মানুষ ও কুকুরের পাশাপাশি ঘুমিয়ে থাকার দৃশ্যকে হৃদয়বিদারক উল্লেখ করে শিল্পী বলেন, রেললাইনের দুপাশের জীবনমান দেশের আয় বৈষম্যের করুণ বাস্তবতা মনে করিয়ে দেয়।
চা বাগানের শ্রমিকদের প্রসঙ্গ টেনে আসিফ আকবর লেখেন, দৈনিক ১৭৮ টাকার মজুরিতে শ্রমিকদের মানবেতর জীবনযাপন মাঝেমধ্যে আলোচনায় এলেও দ্রুতই তা হারিয়ে যায়। তবে এসব বাস্তবতার মাঝেও শ্রীমঙ্গলের নৈসর্গিক সৌন্দর্য এখনও অটুট রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
স্ট্যাটাসে নরসিংদী থেকে আজমপুর হয়ে হরষপুর পর্যন্ত রেলপথকে মাদক কারবারীদের নিয়ন্ত্রিত এলাকা বলেও দাবি করেন এই সংগীতশিল্পী। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওইসব এলাকায় ট্রেনের যাত্রী ও রেল পুলিশ অনেক সময় অসহায় অবস্থায় থাকে এবং মাদক ব্যবসায়ীরা প্রকাশ্যে কার্যক্রম পরিচালনা করে।
এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছেন উল্লেখ করে আসিফ আকবর লেখেন, একসময় রেল কর্মকর্তাদের ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা থাকলেও বিচার বিভাগ পৃথক হওয়ার পর ২০০৯ সালে সেই ক্ষমতা প্রত্যাহার করা হয়। ফলে প্রশাসনিক ক্ষমতা ছাড়া অনেক ক্ষেত্রে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয় না।
শ্রীমঙ্গলের সৌন্দর্যের প্রশংসা করে তিনি লেখেন, “বিশ্বের সব যুদ্ধ শেষ হলেও এক কাপ চায়ের গল্প শেষ হবার নয়।” স্ট্যাটাসের সঙ্গে ন্যাশনাল টি-গার্ডেন, মাধবপুরে তোলা একটি ছবিও প্রকাশ করেন তিনি।