হাম্মাদ তাহমীম
মন্ত্রীর নাম আবুল খায়ের খান। ক্ষমতার দাপটে একসময় তিনি যা খুশি তাই করেছেন। দায়িত্বে থাকাবস্থায় শখের বশে ট্রেনযাত্রায় বের হন। সঙ্গে লোকলস্কর, স্ত্রী-শ্যালিকা, গানের দল—সব মিলিয়ে উৎসবমুখর আয়োজন। কিন্তু যাত্রাপথে ধীরে ধীরে নিজের অতীত, ভুল এবং ভেতরের সংকটের মুখোমুখি হন তিনি। জন্ম নেয় অপরাধবোধ। শেষ পর্যন্ত এক মানবিক মানুষ হিসেবে নিজেকে আবিষ্কার করেন। ট্রেনভর্তি মানুষ তার এই পরিবর্তনে মুগ্ধ হয়।
সিনেমাটি দেখার পর মনে পড়লো দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতার কথা। ক্ষমতায় থাকাকালে যাদের আচরণ ছিল কর্তৃত্ববাদী ও অমানবিক, ক্ষমতা হারানোর পর তাঁদের কেউ কেউ আজ নতুনভাবে “মানবিক” চরিত্র হিসেবে উপস্থাপিত হচ্ছেন অন্তত একটি অংশের কাছে।
এই প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন জাগে—বনলতা এক্সপ্রেস কি নিছক একটি সাহিত্যনির্ভর সিনেমা, নাকি এর ভেতরে সমসাময়িক বাস্তবতার কোনো প্রতিধ্বনি আছে? পরিচালক তানিম নূর কি সচেতনভাবেই এমন একটি গল্প বেছে নিয়েছেন, নাকি এর সবই কাকতালীয়?
মন্ত্রী চরিত্রে বেছে নেয়া হলো চঞ্চল চৌধুরীকে। কেন? ফ্যাসিস্ট সরকারের সাথে তার ঘনিষ্ঠতার কথা এ জাতি ভুলে গেছে? তার অভিনীত চরিত্রটিকে আমি কেবল অভিনয় হিসেবে নয়, বরং জুলুমে জর্জরিত জনতার হৃদয়ে জমানো ক্রোধের আগুন নির্বাপিত করার কু-মতলব হিসেবে দেখছি।
বনলতা এক্সপ্রেস নিয়ে আলোচনা এখন তুঙ্গে। অন্তর্নিহিত বার্তা ধরতে না পেরে বেশিরভাগ মানুষ এর নির্মাণশৈলীর প্রশংসা করছেন।
ফ্যাসিস্ট কি এভাবেই ফিরবে তাহলে!
লেখক: ছড়াকার; সাংগঠনিক সম্পাদক, সৃজনঘর