অনলাইন ডেস্ক :

বেসরকারি মাদ্রাসায় ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগে কওমি মাদ্রাসার সর্বোচ্চ সনদ ‘দাওরায়ে হাদীস (তাকমীল)’ধারীদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করেছে সরকার। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ ‘বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (মাদ্রাসা) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা, ২০২৬’-এর পরিশিষ্ট-ঘ সংশোধন করে ‘সহকারী মৌলভী (কারী)’ ও ‘ইবতেদায়ী কারী’ পদে নিয়োগের শিক্ষাগত যোগ্যতা পুনঃনির্ধারণ করেছে।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) জারি করা এক পরিপত্রে বলা হয়েছে, কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের সর্বোচ্চ স্তর ‘আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি’আতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’-এর অধীন দাওরায়ে হাদীস (তাকমীল) সনদধারী আলেমরা এখন থেকে নির্ধারিত শর্তসাপেক্ষে এসব পদে আবেদনের সুযোগ পাবেন।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, সহকারী মৌলভী (কারী) পদে আবেদনের জন্য বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে দাখিল (মুজাব্বিদ) বা আলিম (মুজাব্বিদ মাহির) এবং সরকার স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফাজিল বা ফাজিল (অনার্স) ডিগ্রি থাকতে হবে। এছাড়া সরকার স্বীকৃত শিক্ষা বোর্ড থেকে ইলমে কিরাআত, দারসে কিরাআত, কারী বা হাফিজে কুরআন সনদসহ ফাজিল/ফাজিল (অনার্স) ডিগ্রিধারীরাও আবেদন করতে পারবেন। একই সঙ্গে দাওরায়ে হাদীস সনদধারীদেরও সংশ্লিষ্ট বিধি অনুযায়ী যোগ্য বিবেচনা করা হবে।

অন্যদিকে ইবতেদায়ী কারী পদে আবেদনের জন্য ‘আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি’আতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’-এর অধীন দাওরায়ে হাদীস (তাকমীল) ডিগ্রির পাশাপাশি যেকোনো কওমি শিক্ষা বোর্ড থেকে ইলমে কিরাআত বা হিফজুল কুরআনের সনদ থাকতে হবে।

পরিপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, আবেদনকারীদের সমগ্র শিক্ষাজীবনে সর্বোচ্চ একটি স্তরে তৃতীয় বিভাগ বা সমমানের ফল গ্রহণযোগ্য হবে। এছাড়া সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩৫ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে একই পদে ইনডেক্সধারী শিক্ষকদের জন্য বয়সসীমা শিথিলযোগ্য থাকবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব স্বাক্ষরিত এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে পরিপত্রে জানানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে কওমি ও আলিয়া ধারার শিক্ষা ব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার হবে এবং কওমি মাদ্রাসার সনদধারী যোগ্য আলেমদের মূলধারার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মসংস্থানের সুযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।