নিজস্ব প্রতিবেদক, ভয়েস অব শ্রীমঙ্গল:

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। খেলাফত মজলিস শ্রীমঙ্গল উপজেলা শাখার উদ্যোগে বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাত ৯টায় শহরের ভানুগাছ রোডস্থ রিজিক রেস্টুরেন্টে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য ও মধ্যপ্রাচ্য-আফ্রিকা জোন পরিচালক মাওলানা আহমদ বিলাল।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা খেলাফত মজলিসের সভাপতি মাওলানা আয়েত আলীর সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি মাওলানা কাজী শিহাব উদ্দিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন খেলাফত মজলিস মৌলভীবাজার জেলা সভাপতি মাওলানা ফখরুল ইসলাম, খেলাফত মজলিস মক্কা মহানগরী শাখার সভাপতি হাফিজ মামুনুর রশিদ মক্কী, ইসলামী শ্রমিক মজলিস মৌলভীবাজার জেলা সভাপতি মাওলানা এম. এ. রহিম নোমানী এবং ইসলামী যুব মজলিস মৌলভীবাজার জেলা সভাপতি মো. এহসানুল হক।

এছাড়া বক্তব্য দেন খেলাফত মজলিস শ্রীমঙ্গল উপজেলা ওলামা সম্পাদক মাওলানা মাহফুজুর রহমান, ইসলামী যুব মজলিস মৌলভীবাজার জেলা প্রকাশনা সম্পাদক খালিদ সাইফুল্লাহ, পৌর খেলাফত মজলিসের সেক্রেটারি মাওলানা আজিজুর রহমান আমিনী, ইসলামী যুব মজলিস শ্রীমঙ্গল উপজেলা সভাপতি মুস্তাকিম আল মুনতাজ, সেক্রেটারি সাদিকুর রহমান, শ্রীমঙ্গল পৌর যুব মজলিস সভাপতি মাহমুদুল হাসান নাঈম এবং ইসলামী ছাত্র মজলিস শ্রীমঙ্গল উপজেলা সেক্রেটারি মুস্তাফিজুর রহমানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাওলানা আহমদ বিলাল বলেন, “চব্বিশের গণআন্দোলন ছিল একটি বিপ্লব। এর সূচনা হয়েছিল ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের ঘটনার মধ্য দিয়ে এবং ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে তা পূর্ণতা পায়। আজ জুলাই সনদ নিয়ে টালবাহানা চলছে। যতদিন পর্যন্ত জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হবে, ততদিন প্রকৃত অর্থে নতুন বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুফল জনগণ ভোগ করতে পারবে না। ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আন্দোলন অব্যাহত রাখতে হবে এবং নতুন কোনো ফ্যাসিবাদের উত্থান এ দেশে হতে দেওয়া যাবে না।”

খেলাফত মজলিস মৌলভীবাজার জেলা সভাপতি মাওলানা ফখরুল ইসলাম বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের উদ্যোগে জুলাই সনদ প্রণয়ন করা হয়। গণভোটে বিপুলসংখ্যক মানুষ এর পক্ষে মত দিয়েছেন। অথচ সরকার তা বাস্তবায়নে গড়িমসি করছে। জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগের সঙ্গে কোনো ধরনের বিশ্বাসঘাতকতা মেনে নেওয়া হবে না। প্রয়োজনে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে আবারও আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। যেকোনো মূল্যে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে হবে।”

খেলাফত মজলিস মক্কা মহানগরী শাখার সভাপতি হাফিজ মামুনুর রশিদ মক্কী বলেন, “শাপলা চত্বর থেকে জুলাই গণঅভ্যুত্থান—সব আত্মত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন করতে হবে। সরকারকে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের মাধ্যমে শহীদদের প্রতি তাদের অঙ্গীকারের প্রমাণ দিতে হবে। নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নে জাতীয় ঐক্যের বিকল্প নেই।”

ইসলামী যুব মজলিস মৌলভীবাজার জেলা সভাপতি মো. এহসানুল হক বলেন, “জুলাই বিপ্লব ছিল বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে একটি ঐতিহাসিক গণজাগরণ। এ আন্দোলনের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্ম অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর শিক্ষা দিয়েছে। জুলাইয়ের শহীদদের প্রতি প্রকৃত সম্মান জানাতে হলে তাদের আদর্শ ও চেতনা ধারণ করতে হবে।”

আলোচনা সভা শেষে জুলাইয়ের শহীদ, আহত যোদ্ধা এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে খেলাফত মজলিস, ইসলামী যুব মজলিস, ইসলামী ছাত্র মজলিস এবং ইসলামী শ্রমিক মজলিসের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।