শ্রীমঙ্গলে আবারো রঙ তুলিতে জেগে উঠলো ২৪ জুলাইয়ের গ্রাফিতি

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল কলেজ রোডের উদয়ন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দেয়ালজুড়ে আবারও দৃশ্যমান হয়েছে ২৪ জুলাইয়ের আন্দোলনের স্মৃতিচিহ্ন—রঙে আঁকা এক তীব্র প্রতিবাদের ক্যানভাস। ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্যোগে নবায়ন করা এই গ্রাফিতি আবারও স্মরণ করিয়ে দিল সেই আন্দোলনের দাবিদাওয়া, আবেগ ও সংগ্রামের গল্প।
ছবিতে উঠে এসেছে একাধিক প্রতীক ও বার্তা—বাঙালির ভাষা আন্দোলন, রাষ্ট্রীয় দমনপীড়ন, নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং স্বাধীন চিন্তার আহ্বান। মুখ্যভাবে দেখা যায় একজন ছাত্রনেতার হাস্যোজ্জ্বল মুখ, পেছনে লাল-হলুদ রঙে প্রতিবাদের ভাষা—“মুগ্ধ আর বলবে না”, “পানি লাগবে পানি”, “বাবা, দেখো, হেলিকাপ্টার”, এবং বড় করে লেখা “৩২শে জুলাই”—যা প্রতীকী তারিখ হিসেবে রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের প্রতিবাদের দিন হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।
ছাত্ররা জানান, এই গ্রাফিতি কেবল দেয়ালে রঙ নয়, এটি একটি বার্তা—ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যেন ভুলে না, কীভাবে একজন ছাত্রজীবন থেকে উঠে এসে একটি প্রজন্মের মুখপাত্র হতে পারে, এবং কীভাবে রাষ্ট্রের ভুল সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কণ্ঠ তুলতে হয়।
একজন শিক্ষার্থী বলেন, “এটি আমাদের স্মৃতি। আমরা এটি রঙ করি যেন এই চেতনা হারিয়ে না যায়।”
গ্রাফিতিতে রঙ করা হয়েছে নতুন করে, পুরনো বার্তাগুলিকে আরও উজ্জ্বল করে তোলা হয়েছে—শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা, বঞ্চিতদের প্রতি সহমর্মিতা, আর সমাজের প্রতি এক জাগ্রত আহ্বান হিসেবে। এই গ্রাফিতি আমাদের মনে করিয়ে দেয়, দেয়াল শুধু পেইন্টিংয়ের জন্য নয়, দেয়াল হতে পারে প্রতিবাদেরও একটি শক্তিশালী ভাষা।
শ্রীমঙ্গল কলেজ রোডের আইটি কম্পিউটার গ্যালারির পরিচালক মো. আরিফ হোসেন বলেন, “এই দেয়ালটা আমি প্রতিদিন দেখি। শিক্ষার্থীরা যখন আবার রঙ করছিল, তখন মনে হলো শ্রীমঙ্গল এখনও বেঁচে আছে, এখনও প্রতিবাদ করতে জানে।”
মারুফ আহমেদ নামের এক কলেজ শিক্ষার্থী বলেন, “এই দেয়ালচিত্র আমাদের শক্তি দেয়। যখন দেখি কেউ ভয় পায় না, তখন নিজের মধ্যেও সাহস আসে। প্রতিবছর এই রঙ করা আমাদের দায়িত্ব মনে হয়।”
শ্রীমঙ্গল সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের দলিল লেখক রাজীব আচার্য্য বলেন, “ছাত্রদের এই উদ্যোগ দেখে আমি গর্বিত। এই প্রজন্ম যদি নিজেদের ইতিহাস ধরে রাখে, তাহলেই আমরা সামনে এগোতে পারবো।















