কুলাউড়ায় ৪০ দিনের নামাজ প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী ও সংবর্ধনা সম্পন্ন

স্টাফ রিপোর্টার :
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার কাদিপুর ইসলামি যুব সংঘের উদ্যোগে আয়োজিত দ্বিতীয় বারের মতো ৪০ দিনব্যাপী ধারাবাহিক নামাজ আদায় প্রতিযোগিতার সমাপনী এবং পুরস্কার বিতরণী ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে।
গত শুক্রবার (২৫ জুলাই) সকাল ১০টায় কাদিপুর জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে এই বর্ণাঢ্য আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।
কাদিপুর জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা জুবায়ের আহমদ জুবেল এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কাদিপুর জামে মসজিদের মুতাওয়াল্লী আলহাজ্ব শাহীন আহমদ।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মহিউদ্দিন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুলাউড়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মাওলানা ফজলুল হক খান, উপজেলা কৃষি অফিসার ও কৃষিবিদ মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন
বিশেষ বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ক্বারি, মুফাসসির, শিল্পী ও আলোচক হাফেজ মাওলানা জুনায়েদ আহমদ তাশরীফ।
প্রধান অতিথি মোহাম্মদ মহিউদ্দিন তাঁর বক্তব্যে বলেন, “ধর্মীয় মূল্যবোধে গড়া আগামী প্রজন্ম গঠনে এমন আয়োজন খুবই প্রশংসনীয়। আজকের এই শিশু-কিশোররাই একদিন দেশ ও জাতির নেতৃত্ব দিবে। তাই ছোটবেলা থেকেই নামাজের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতে তাদের অভ্যস্ত করে গড়ে তোলা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। কাদিপুর ইসলামি যুব সংঘের এ মহতী উদ্যোগ নিঃসন্দেহে অনুসরণীয় উদাহরণ হয়ে থাকবে।”
বিশেষ অতিথি মাওলানা ফজলুল হক খান বলেন, “এই যুব সংগঠনটি যে ধরনের ব্যতিক্রমধর্মী ধর্মীয় ও সামাজিক কাজ করছে, তা সত্যিই আনন্দের। ৪০ দিন নিয়মিত নামাজ আদায়ের মাধ্যমে আমাদের শিশু-কিশোরদের মাঝে যে শৃঙ্খলা ও ধার্মিক চেতনার বীজ বপন হচ্ছে, তা ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। আমি সংগঠনের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করি।”
বিশেষ অতিথি কৃষিবিদ মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন, “আজকের এই আয়োজন শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়, এটি একটি অনুপ্রেরণার বাতিঘর। নামাজ শুধু ইবাদত নয়, এটি মানুষের জীবনে সময়ানুবর্তিতা, দায়িত্ববোধ ও আত্মশুদ্ধির অনন্য শিক্ষা দেয়। শিশু-কিশোরদের মাঝে এমন শিক্ষা ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।”
বিশেষ বক্তা হাফেজ মাওলানা জুনায়েদ আহমদ তাশরীফ বলেন, “এই প্রতিযোগিতা প্রমাণ করে যে সঠিক দিকনির্দেশনা ও উদ্যমী নেতৃত্ব থাকলে সমাজের প্রতিটি স্তরে ইসলামী মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা সম্ভব। নামাজ আমাদের জীবনের একটি অনন্য নিয়ম-নীতি এবং সফলতার চাবিকাঠি। আমি আয়োজকদের এমন উদ্যোগ অব্যাহত রাখার অনুরোধ জানাই এবং দেশের সর্বত্র এমন আয়োজন ছড়িয়ে পড়ার দোয়া করি।”
অনুষ্ঠানে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী শিশু-কিশোরদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয় এবং এলাকার বিভিন্ন ধর্মীয়, সামাজিক ও শিক্ষামূলক কাজে অবদানের জন্য সম্মানিত ব্যক্তিবর্গকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আরও উপস্থিত ছিলেন, মুফতি শফিকুর রহমান, মুফতী শরিফুল ইসলাম, সংগঠন সভাপতি মাস্টার সেলিম, সাধারণ সম্পাদক বদরুল ইসলাম প্রমুখ সহ স্থানীয় মুসল্লি, সুধী সমাজ ও এলাকাবাসীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি এক প্রাণবন্ত পরিবেশে সম্পন্ন হয়।















