বরুণা মাদরাসার মহাসম্মেলনে লাখো মানুষের ঢল
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট না দিলে স্বৈরাচারশক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে: বরুণার পীর

স্টাফ রিপোর্টার, ভয়েস অব শ্রীমঙ্গল:
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও আলেম-উলামাদের অবদান অনস্বীকার্য মন্তব্য করে আগামী সংসদ নির্বাচনে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বরুণার পীর ও আমীরে আঞ্জুমানে হেফাজতে ইসলাম শায়খুল হাদিস আল্লামা মুফতি রশিদুর রহমান ফারুক বর্ণভী। শুক্রবার রাতে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের বহুমুখী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জামিয়া লুৎফিয়া আনওয়াল উলূম হামিদনগর বরুণা মাদরাসার আন্তর্জাতিক ইসলামী মহাসম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
আঞ্জুমানে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমীর মুফতি রশিদুর রহমান ফারুক বর্ণভী আরো বলেন, ২০২৪ সালে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্যদিয়ে নতুন বাংলাদেশ অর্জন হয়েছে। আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচনে ভোট দেবেন আপনার পছন্দের যেকোনো প্রার্থীকে, তবে গণঅভ্যুত্থানের পক্ষে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে হবে। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট না দিলে সামনে বড় বিপদ আছে; ভবিষ্যতে স্বৈরাচার কোনো শক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে। এসময় তিনি সাধারণ মুসল্লিদের গণভোটে হ্যাঁ’ ভোট এবং ঐক্যবদ্ধ থাকার আহবান জানান।
তিনি আরো বলেন, নির্বাচনী জোটে আমাদের মধ্যে আদর্শিক দ্বিমত থাকতে পারে, তবে নির্বাচনী লড়াইয়ে আমরা এক। ভোট আমানত, দ্বীনদার সৎপরায়ণ ইসলামী মুল্যবোধে বিশ্বাসী প্রার্থীকে ভোট দেয়া নৈতিক দায়িত্ব বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
শনিবার ভোরে লাখো মুসল্লির আমিন আমিন ধ্বনিতে বরুণা মাদরাসার ইসলামী মহাসম্মেলন ২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার সকাল ১০ টায় বরুণা মাদরাসা মাঠে আনুষ্ঠানিকভাবে মহাসম্মেলনের উদ্বোধনী বয়ান পেশ করেন বরুণা মাদরাসার প্রিন্সিপাল ও দ্বীন টিভি ইউকের চেয়ারম্যান মাওলানা শেখ বদরুল আলম হামিদী।
বরুণা মাদরাসার সদরে মুহতামিম হাফিজ মাওলানা সাইদুর রহমান বর্ণভীর সভাপতিত্বে দিবা রাত্রব্যাপী সম্মেলনে বয়ান পেশ করেন শায়খুল হাদিস আল্লামা মুফতি রশিদুর রহমান ফারুক বর্ণভী, খেলাফত মজলিসের আমির বরেণ্য আলেম আল্লামা আব্দুল বাছিত আজাদ (বড় হুজুর), বরুণা মাদরাসার প্রিন্সিপাল শেখ বদরুল আলম হামিদী, শায়খুল হাদিস আল্লামা হাফেজ ওলিউর রহমান বর্ণভী, বাংলাদেশ কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের (বেফাক) মহাসচিব আল্লামা মাহফুজুল হক, মাওলানা রেজাউল করিম জালালী, মাওলানা শাহীনুর পাশা চৌধুরী, গহরপুর মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা মুসলেহ উদ্দিন রাজু, বরুণা মাদরাসার নায়েবে সদরে মুহতামিম
মাওলানা শেখ নুরে আলম হামিদী, মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবী, মুফতি আনোয়ার হোসাইন চিশতি, মুফতি উবায়দুর রহমান হোজাইফি, মাওলানা শোয়াইব আহমদ আশরাফি, মাওলানা মুজিবুর রহমান মুজাহির, মুফতি মুশাহিদ কাসেমি, মাওলানা শেখ আহমদ আফজল বর্ণভী, মাওলানা হাফেজ সাদ আহমদ বর্ণভীসহ অর্ধশতাধিক দেশবরেণ্য উলামায়ে কেরাম ও ইসলামী চিন্তাবিদগণ।
সম্মেলনে আলেমরা বলেন, ‘ঐক্য মুসলমানদের বড় শক্তি। মুসলিম উম্মাহকে বিভক্তির পথ পরিহার করে ইসলামের পক্ষে এক হতে হবে। ‘মুসলমানরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে কোন শক্তি তাদের পরাজিত করতে পারবে না। ইসলামকে শক্তিশালী করতে আমাদের অহংকার, গর্ব এবং হিংসা পরিহার করে পীর-ওলামাদের নেতৃত্বে একত্রিত হতে হবে।
সম্মেলনে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য আলহাজ্ব মুজিবুর রহমান চৌধুরী হাজী মুজিব, খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য, রাজনগর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা আহমদ বিলাল, জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় যুগ্ন সদস্য সচিব প্রীতম দাশ।
সম্মেলনে প্রায় লক্ষাধিক মুসল্লি অংশ নেন। ভৈরবগঞ্জ বাজারের মহাসড়ক অবরুদ্ধ হয়ে যায় আগত মুসল্লিদের শত শত গাড়ির কারণে। বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও স্বেচ্ছাসেবক টিম মাঠে তৎপর ছিল। জরুরি চিকিৎসা সেবা দিতে ছিল অস্থায়ী ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প।
সম্মেলনে আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করেন বরুণা মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা শেখ বদরুল আলম হামিদী। মোনাজাতে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি-সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করা হয়।
সম্মেলন উপলক্ষে জামিয়ার প্রকাশনা বিভাগ থেকে প্রকাশিত হয় বার্ষিক আল আলম (বাংলা ও আরবি) ম্যাগাজিন, মাদানী নেসাবের পক্ষ থেকে শিশির নামক আরবি-বাংলা বাংলা বিশেষ প্রকাশনা সহ জামিয়ার সংক্ষিপ্ত পরিচিতি ও ফলাফল সম্বলিত বই। এছাড়া আল খলিল কুরআন শিক্ষাবোর্ডের ফলাফল গেজেটও ছাপানো হয়। বিগত ২০২৪/২৫ সালে দাওরায়ে হাদিস, ইফতা, আদব, হিফজ সম্পন্নকারীসহ অন্ধ হাফেজে কুরআন শিক্ষার্থীদের দস্তারে ফযীলত (পাগড়ি) প্রদান করা হয়।
বিশেষ আয়োজন হিসেবে, জামিয়ার ছাত্ররা আরবি ও বাংলা দেয়ালিকা প্রকাশ এবং অন্যান্য সৃজনশীল কার্যক্রমে অংশ নেয়, যা সম্মেলনে আগত মুসল্লিদের কাছে ব্যাপক প্রশংসিত হয়। মাদরাসার ছাত্র-শিক্ষক এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সু-ব্যবস্থা ছিল উল্লেখযোগ্য।
















