দ্বৈত নাগরিকত্ব ইস্যুতে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে: মাওলানা হামিদীর ভাই

স্টাফ রিপোর্টার, ভয়েস অব শ্রীমঙ্গল:
১০দলীয় জোটের প্রার্থী ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত মৌলভীবাজার-৪(শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আসনের এমপি প্রার্থী মাওলানা শেখ নূরে আলম হামিদীর দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো বিভ্রান্তিকর তথ্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন তাঁর আপন ভাই, দ্বীন টিভি ইউকের চেয়ারম্যান, বরুণা মাদরাসার প্রিন্সিপাল, বিশিষ্ট মিডিয়া ব্যক্তিত্ব মাওলানা শেখ বদরুল আলম হামিদী।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, আমার বড় ভাই মাওলানা শেখ নূরে আলম হামিদীর ব্যাপারে এটি একটি পরিকল্পিত অপপ্রচার, যার মাধ্যমে একটি নিয়মতান্ত্রিক আইনি প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা চলছে।
তিনি জানান, নাগরিকত্ব ত্যাগ (Renunciation) একটি দীর্ঘমেয়াদি ও সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া। বিশেষ করে বৃটিশ নাগরিকত্ব ত্যাগের বিষয়টি আরও জটিল। বৃটিশ আইনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে—একজন নাগরিক যেদিন নাগরিকত্ব ত্যাগের জন্য আবেদন করেন, সেদিন থেকেই তাকে নাগরিকত্ব ত্যাগকারী হিসেবে গণ্য করা হয়। এ ক্ষেত্রে হোম সেক্রেটারির রেজিস্টার্ড সার্টিফিকেট সঙ্গে সঙ্গে প্রদর্শনের কোনো বাধ্যবাধকতা বাংলাদেশের সংবিধান বা আইনে কোথাও উল্লেখ নেই। শেখ নূরে আলম হামিদীর ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি উল্লেখ করে তিনি বলেন, বৃটিশ নাগরিকত্ব ত্যাগের আবেদন (Renunciation of British nationality) করেই তিনি দেশে ফিরে নির্বাচনী প্রচারণায় সক্রিয় হন।একইসঙ্গে তিনি হেফাজতে ইসলাম ইউকের ট্রাস্টিসহ সব দায়িত্বশীল পদ থেকেও পদত্যাগ করেছেন।
মনোনয়নপত্রে বিষয়টি উল্লেখ না করার বিষয়ে তিনি বলেন, যেহেতু এটি একটি চলমান ও সময়সাপেক্ষ আইনি প্রক্রিয়া, তাই সিনিয়র আইনজীবীদের পরামর্শ অনুযায়ী মনোনয়নপত্রে বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি। তবে নির্বাচন কমিশন প্রয়োজন মনে করলে আবেদনের স্লিপসহ সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র জমা দিতে তিনি সম্পূর্ণ প্রস্তুত আছেন।
প্রবাসী কমিউনিটির একজন প্রতিনিধি হিসেবে তিনি বলেন, বিগত কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চালানো অপপ্রচারে তিনি গভীরভাবে মর্মাহত ও বিক্ষুব্ধ। ২০১৩ সালে শেখ নূরে আলম হামিদী কারাবন্দি থাকার সময়কার পুরনো ও প্রাসঙ্গিকতাহীন ডকুমেন্টস ব্যবহার করে একটি নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
তিনি আরও বলেন, যাদের প্রবাসীদের প্রতি ন্যূনতম সম্মানবোধ ও দেশপ্রেম রয়েছে, তারা কখনো এমন আত্মঘাতী কর্মকাণ্ডে জড়াতে পারেন না। ফেইক আইডি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে সাংবাদিকতার নামে যে হলুদ সংবাদ পরিবেশন করা হচ্ছে, তা আমরা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করি।
এই ধরনের অপপ্রচার অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পরিবেশ বিনষ্ট করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ডিজিটাল আইনের আওতায় এসব অপতৎপরতার সঙ্গে জড়িতদের বিচারের মুখোমুখি করা সময়ের অনিবার্য দাবি।













