১১ দলীয় জোট ক্ষমতায় গেলে নারীদের সম্মান আরও বৃদ্ধি পাবে: আহমদ বিলাল

স্টাফ রিপোর্টার, ভয়েস অব শ্রীমঙ্গল:
মৌলভীবাজার-৩ (সদর-রাজনগর) আসনের ১১ দলীয় জোটের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী খেলাফত মজলিসের আহমদ বিলাল বলেছেন, “নারীর মর্যাদা ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গড়তে হলে আগে আমাদের নিজেদের পরিবর্তন করতে হবে। এবারের নির্বাচনে যদি আপনাদের ভোটে বিজয়ী হলে সমাজে নারীদের প্রতি কুদৃষ্টি ও সহিংস মানসিকতার বিরুদ্ধে কঠোর সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে, যাতে কোনো নারী অসম্মানিত না হন।”
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) দুপুরে মৌলভীবাজার পৌরসভার চুবড়া এলাকায় নারী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, “আপনাদের ভোটে ১১ দলীয় জোট বিজয়ী হলে এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে যেখানে নারীরা সর্বোচ্চ মর্যাদা ও নিরাপত্তার সঙ্গে চলতে পারবেন।”
আহমদ বিলাল আরও বলেন, “ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন একই সঙ্গে ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ ভোট অনুষ্ঠিত হবে। যদি ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত হয় তাহলে দেশে আর স্বৈরাচার ফিরে আসবে না।”
তিনি আরও যোগ করে বলেন, “বিগত দিনে সারাদেশে নারীদের সঙ্গে যেভাবে অবিচার করা হয়েছে, আপনারা তা প্রত্যক্ষ করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নারী শিক্ষার্থীরা ধর্মীয় অধিকার পালনে বাধার সম্মুখীন হয়েছিল। আল্লাহ তায়ালার অশেষ কৃপায় ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর নারী শিক্ষার্থীরা আবারও নিজ নিজ ধর্ম পালন করতে পারছেন। কিন্তু যদি আবারও স্বৈরাচারী শক্তিকে ক্ষমতায় বসানো হয়, তাহলে পরিস্থিতি আগের মতো হয়ে যাবে।”
রাজনীতিতে শুদ্ধতা ও সুশাসনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, “দেশে আর কোনো ভোট চোর দেখতে চান না তারা। যারা নিজেদের দলের ভেতরের চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও সহিংসতা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না, তারা কখনোই একটি সুন্দর বাংলাদেশ উপহার দিতে পারবে না।”
আহমদ বিলাল বলেন, “আমাদের নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) নারীদের সম্মানিত করেছেন। জাহিলিয়াতের যুগে নারীরা যে অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল, ইসলাম তা ফিরিয়ে দিয়েছে। ইনশাআল্লাহ—আমরা এবং আমাদের ১১ দলীয় জোট ক্ষমতায় গেলে নারীদের সম্মান আরও বৃদ্ধি পাবে। কোরআন ও হাদিসের আলোকে নারীদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা হবে। নারীদের শিক্ষার জন্য আরও মহিলা মাদ্রাসা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হবে।”
উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বর্তমানে সাধারণ মানুষের বাসা-বাড়িতে নতুন গ্যাস সংযোগ দেওয়া হচ্ছে না। আমরা ক্ষমতায় গেলে প্রতিটি বাসা-বাড়িতে গ্যাস সংযোগ নিশ্চিত করা হবে।”
রাস্তার করুণ অবস্থার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমরা ক্ষমতায় গেলে পাকা রাস্তাগুলোর সংস্কার এবং কাঁচা রাস্তাগুলো পাকাকরণ করা হবে। যোগাযোগ ব্যবস্থার সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে।”
স্বাস্থ্য ও শিক্ষাখাত নিয়ে তিনি বলেন, “পার্শ্ববর্তী জেলা হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জে মেডিকেল কলেজ স্থাপন হলেও মৌলভীবাজার এখনও বঞ্চিত। জেলার ৯২টি চা বাগানে কর্মরত নারী শ্রমিকরা উন্নত চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত। আমরা ক্ষমতায় গেলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মৌলভীবাজারে একটি মেডিকেল কলেজ স্থাপন করা হবে। মৌলভীবাজার সরকারি কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করা হবে এবং একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে।”
সভাপতির বক্তব্যে শাহিনা ইয়াছমিন বলেন, “নারীদের অধিকার আদায়ের জন্য ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী আহমদ বিলালকে বিজয়ী করা আমাদের দায়িত্ব। বিগত দিনে নারীরা যেভাবে লাঞ্ছিত হয়েছেন তার অবসান ঘটাতে হলে এই জোটকে ক্ষমতায় আনতে হবে।”
সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন খেলাফত মজলিস জেলা শহর শাখার সভাপতি কাজী হারুনুর রশীদ। আরও বক্তব্য দেন রেহানা আক্তার, সেলিনা বেগমসহ ১১ দলীয় জোটের নারী নেতৃবৃন্দ।













