শ্রীমঙ্গলে সাংবাদিক এহসানের বিরুদ্ধে ফেসবুকে অপপ্রচার, থানায় জিডি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ভয়েস অব শ্রীমঙ্গল:
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও মানহানিকর তথ্য প্রচারের অভিযোগে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ ও অনুসন্ধানী সাংবাদিক মো. এহসানুল হক (এহসান বিন মুজাহির)। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) রাতে তিনি এ জিডি করেন। জিডি নম্বর ১৩৬২।
জিডিতে উল্লেখ করা হয়, শ্রীমঙ্গল উপজেলার ৬ নম্বর আশিদ্রোন ইউনিয়নের তিতপুর গ্রামের বাসিন্দা মৃত ইছাক মিয়ার ছেলে মো. আলতাফুর রহমান ওরফে নাজমুল হাসান (ফেসবুক আইডি: Md. Altafur) তার নিজ নামীয় ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে সাংবাদিক এহসানুল হক ও তার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অসত্য, বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর পোস্ট ছড়াচ্ছেন।
সাংবাদিক এহসান বিন মুজাহির জাতীয় দৈনিক খোলা কাগজ পত্রিকার মৌলভীবাজার জেলা স্টাফ রিপোর্টার। তিনি শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ এবং শ্রীমঙ্গল আইডিয়াল স্কুলের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উদ্যোক্তা ও পরিচালকের দায়িত্বেও রয়েছেন। তিনি বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশনের মৌলভীবাজার জেলা শাখার সভাপতি এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ইডাফ-এর শ্রীমঙ্গল উপজেলা শাখার সেক্রেটারি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
জিডির বরাতে সাংবাদিক এহসান বিন মুজাহির বলেন, “স্থানীয়ভাবে প্রতারক হিসেবে পরিচিত আলতাফুর রহমানের বিরুদ্ধে পূর্বে প্রতারণা, অনিয়ম ও দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশের পর থেকেই আমার বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। Md Altafur নামক ফেসবুক আইডি থেকে আমার এবং আমার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সম্মানহানিকর ও মিথ্যা তথ্য পোস্ট করা হচ্ছে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি তাকে প্রাণনাশের হুমকি, ভয়ভীতি প্রদর্শন, মিথ্যা মামলা, লাশ গুমসহ নানা ভয়ঙ্কর হুমকি দিচ্ছেন। এমনকি তার পরিবারের সদস্য এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান উড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জিডিতে উল্লেখ করেন। এসব ঘটনায় তিনি ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে দাবি করেন।
সাংবাদিক এহসান আরও জানান, ২০২৫ সালের ২৪ অক্টোবর দৈনিক খোলা কাগজে “আলতাফুরের কাছে জিম্মি চার গ্রামের মানুষ” শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনে আশিদ্রোন ইউনিয়নের চারটি গ্রামে আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে ভুক্তভোগীদের বক্তব্য ও তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরা হয়। এতে আলতাফুর রহমানের বিরুদ্ধে প্রতারণা, মামলাবাজি, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠে আসে। এরপর থেকেই অভিযুক্ত ব্যক্তি ব্যক্তিগত আক্রোশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এবং প্রকাশ্যে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে আসছেন বলে অভিযোগ করা হয়। এমনকি সংবাদ প্রকাশের ছয় মাস পর তাকে হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলায় আসামিও করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ জহিরুল ইসলাম মুন্না বলেন, “সাংবাদিক এহসানের পক্ষ থেকে ফেসবুকে অসত্য ও মানহানিকর তথ্য প্রচার এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে একটি সাধারণ ডায়েরি গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


















