জুড়ীতে সিএনজি চালক যুবলীগ নেতা টিভি সাংবাদিক!

মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার এক যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে নিজেকে জাতীয় টেলিভিশন সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে দাপটের অভিযোগ উঠেছে। মাছুম আহমেদ নামের ওই ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে সিএনজি চালকের কাজ করেছেন। কিন্তু বর্তমানে তিনি সরকারি ও রাজনৈতিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানে টিভি সাংবাদিকের কার্ড ঝুলিয়ে উপস্থিত হন, যা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা চলছে।
মাছুম আহমেদ জুড়ীর ৫ নং জায়ফরনগর ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডে তিন বছর মেয়াদী আংশিক যুবলীগ কমিটির সভাপতি। উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রিংকু রঞ্জন দাসের পারিবারিক ড্রাইভার হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর থেকে তিনি যুবলীগ রাজনীতিতে সক্রিয় হয়েছেন। বিভিন্ন ফেস্টুন, পোস্টার ও অনুষ্ঠানেও তার নাম দেখা যায়। তবে তার মাধ্যমিক পাশ না করেও দেশের বেসরকারি একটি টেলিভিশনে সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ায় অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন।
স্থানীয় সিএনজি শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মাজেদুল ইসলাম জানান, মাছুম দীর্ঘদিন জুড়ী-বড়লেখা-কুলাউড়া রোডে সিএনজি চালিয়েছে এবং এখনও ইউনিয়নের সদস্য। সাবেক সভাপতি নানু মিয়া বলেন, মাছুম প্রায় ১০-১২ বছর ধরে সিএনজি চালিয়েছেন, তবে সম্ভবত ২০২২ সাল থেকে পেশাটি ছেড়ে দিয়েছেন।
জায়ফরনগর ইউনিয়নের যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মতিউর রহমান রাজিব নিশ্চিত করেন, মাছুম ওই ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ড যুবলীগ কমিটির সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন। মাছুম নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি সিএনজি চালক ছিলাম না এবং যুবলীগের কোনো পদে নেই। আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আছে সব মিথ্যা। যারা আমাকে ভালোবাসে না তারা এসব প্রচার করে।”
মাছুমের এই কর্মকাণ্ড নিয়ে স্থানীয় ছাত্র-জনগণের মাঝে নিন্দা ও সন্দেহ জন্মেছে। বিশেষ করে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতাকর্মীরা তার টিভি সাংবাদিক পরিচয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, অনিয়ম ও সরকারি সুবিধা আদায়ে প্রভাব খাটানোর অভিযোগও উঠেছে।
এ বিষয়ে তদন্ত বা নীতিনির্ধারকদের পদক্ষেপ এখনও জানা যায়নি। তবে স্থানীয় রাজনৈতিক মহল এবং সাধারণ মানুষ চান, সাংবাদিকতার পেশার মর্যাদা রক্ষা ও সঠিকভাবে পেশাজীবীদের নিয়োগ নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক
















