হবিগঞ্জে ‘শিক্ষাচিন্তা’র দ্বিতীয় মজলিস

হবিগঞ্জের কওমি মাদরাসার শিক্ষকদের পারস্পরিক পরিচিতি, চিন্তা, অভিজ্ঞতা ও মত বিনিময়ের লক্ষে আয়োজিত ‘শিক্ষাচিন্তা’র দ্বিতীয় মজলিস অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার (১২জুন) বাহুবল উপজেলার মিরপুর জামিয়া হুসাইনিয়া মাদরাসায় সকাল ১০টা থেকে শুরু হয়ে বিকাল ৫টায় গিয়ে শেষ হয়।
ভরাট কণ্ঠ, বিশুদ্ধ উচ্চারণ ও পরিমিত শব্দে বাক্যে তরুণ আলেম মাওলানা বুরহান আইয়ুবের পরিচালনায় কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হওয়ার পর প্রায় ২ ঘণ্টা ব্যাপী প্রথম পর্বে উপস্থিত শিক্ষককেরা বিভিন্ন বিষয়ে নিজেদের চিন্তা ও পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন। এতে হবিগঞ্জের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে স্বতঃস্ফুর্তভাবে বিভিন্ন মাদরাসার শিক্ষকরা এসে যোগ দেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ আলোচক হিসেবে ছিলেন আইএফএ কনসালটেন্সির প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক, অর্থনীতিবীদ, জামিয়া শারইয়্যাহ মালিবাগ, ঢাকা’র সহকারী মুফতি ও বেশ কিছু সফল গবেষণা গ্রন্থের লেখক মুফতি আব্দুল্লাহ মাসুম (সিএসএএ)।
‘কওমি মাদরাসার বর্তমান নেসাব কাঠামো ও আকাবির ভাবনা’ শিরোনামে তিনি তার গবেষণার সারসংক্ষেপ স্লাইডের মাধ্যমে তুলে ধরেন। অনিবার্য কারণে তিনি সশরীরে উপস্থিত হতে না পারায় মজলিসে যুক্ত হন অনলাইনের মাধ্যমে। আলোচনা শেষে তার গবেষণাপত্রটি শিক্ষাচিন্তার সদস্যদের মধ্যে বিতরণ করা হয়।
দ্বিতীয় অতিথি আলোচক হিসেবে উপস্থিত হয়ে দীর্ঘ প্রায় দু’ঘণ্টা ব্যাপী সারগর্ভ আলোচনা পেশ করেন তরুণ বিদগ্ধ আলেমে দীন, চিন্তক, গবেষক, বাংলা ও আরবি ভাষায় অনেকগুলো গ্রন্থের সফল রচয়িতা মুফতি আবদুল কাদির মাসুম।
তার আলোচ্য বিষয় ছিল—‘আরবি ভাষা ও সাহিত্যে আমার পথচলার ইতিবৃত্ত ও অধ্যয়ন পদ্ধতি’। উভয় বিষয়ে তিনি এক ঘণ্টা বিশ মিনিট আলোচনা উপস্থাপন করেন। উপস্থিত শ্রোতাবৃন্দ পিনপতন নিরবতায় তার সে বক্তব্য গ্রহণ করেন। মূল বক্তব্যের পর আরো আধা ঘণ্টার মতো চলে প্রশ্নোত্তর পর্ব।
অতিথি আলোচক হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন ঢাকার স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জামিয়াতুল উলূমিল ইসলামিয়ার উস্তাযুল হাদীস, তরুণ আলেম, চিন্তক ও বহু গ্রন্থ প্রণেতা মাওলানা শিব্বির আহমদ। তিনি তার আলোচনায় পত্র পত্রিকায় লেখালেখি বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা ও অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন।
বিচিত্র উপাদান দিয়ে সাজানো সুন্দর এ মজলিসে ছিল—কুরআনুল কারীমের তেলাওয়াত ও তরজমা, হাদীস পাঠ ও তরজমা উপস্থাপন, স্বাগত বক্তব্য, হামদ ও ইসলামি সংগীত, বিষয় ভিত্তিক উন্মুক্ত আলোচনা পর্ব, অতিথিদের আলোচনা, প্রশ্নোত্তর পর্ব ও বিবিধ বিষয়ে পরামর্শ পর্ব। মাঝে নামাজ ও খাবারের বিরতি প্রদান করা হয়।
শেষ পর্বে মিরপুর জামিয়া হুসাইনিয়া মাদরাসার প্রিন্সিপাল, শিক্ষাচিন্তার সহযোগী যিম্মাদার মাওলানা মাহমুদুর রহমান সালিমের সভাপতিত্বে শুরু হয় সম্মিলিত পরামর্শ পর্ব। সেখানে আলাপ আলোচনা শেষে ৭টি বিষয়ে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সিদ্ধান্তগুলো—
১. বছরে অন্তত একটি করে সমৃদ্ধ একটি শিক্ষাম্যাগাজিন প্রকাশ।
২. সুবিধা মতো সময়ে জেলা ব্যাপী হিফজুল হাদীস প্রতিযোগিতার আয়োজন।
৩. শিক্ষাচিন্তা প্রাথমিক যাত্রার পর উল্লেখযোগ্য একটি স্থিতিশীলতা ও সুসংহতি সৃষ্টি হবার পর সিনিয়র ও মুরুব্বি উলামায়ে কেরামের সাথে সাক্ষাত ও যোগাযোগ।
৪. বিভিন্ন উপলক্ষ সামনে নিয়ে ব্যয় নির্বাহের জন্য প্রয়োজনীয় ফান্ড কালেকশনে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ।
৫. কাজের সুবিধার জন্য পুরো জেলার সকল জেলার কওমি মাদরাসাসমূহের পরিচিতি সংগ্রহ করে একটি ডাটাবেইজ তৈরী করা।
৬. অনলাইনে সুনির্দিষ্ট উপস্থিতির জন্য একটি ফেসবুক পেইজ খোলা।
৭. সেই সাথে আগামি মজলিসের সম্ভাব্য সময় হিসেবে ঠিক করা হয় বার্ষিক পরীক্ষার পর ছুটির সময়টিকে। এই সময়ের ভিতরে হিফজুল হাদীস প্রতিযোগিতাসহ অন্যান্য উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য আন্তরিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার জন্য বিশেষ আহ্বান জানানো হয়।
বিষয়গুলো নিয়ে প্রয়োজনীয় পর্যালোচনা শেষে খসড়া প্রস্তাবন তৈরী করে সদস্যদের সামনে উপস্থাপনের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয় শিক্ষা চিন্তার ১১ সদস্য বিশিষ্ট কার্য নির্বাহি টিমকে।
শিক্ষা ও শিক্ষকতার মান উন্নয়নে শিক্ষাচিন্তার এ উদ্যোগকে সকলেই প্রশংসা করছেন।























