1. admin@voiceofsreemangal.com : admin :
শ্রীমঙ্গল ০২:১৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
শুক্রবার থেকে শ্রীমঙ্গলে তিন দিনের হারমোনি ফেস্টিভ্যাল শুরু শ্রীমঙ্গলে শিশু ধ/র্ষ/ণের ঘটনায় মানববন্ধন, অভিযুক্তের ফাঁ/সি/র দাবি ‘মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের বাজেটকে কেউ কেউ চানাচুর বলছে’—প্রধানমন্ত্রী বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়ে হ্যাটট্রিক করলেন মেসি আর্জেন্টিনা সমর্থকদের জন্য ৩০% ছাড় ঘোষণা করলেন শ্রীমঙ্গলের জাকারিয়া কুলাউড়ায় বিএসএফের গুলিতে নিহত মুজিবের লাশ হস্তান্তর, পতাকা বৈঠক সিলেটে বিভাগীয় কমিশনারের বৈঠকে মৌলভীবাজার-হবিগঞ্জ বাস মালিক সমিতির বিরোধ নিষ্পত্তি চাঁদাবাজির সংবাদ প্রকাশের জেরে ফেসবুক লাইভে সাংবাদিককে হুমকি, থানায় জিডি বনলতা এক্সপ্রেস: ফ্যাসিস্ট যেভাবে ফিরতে চায় শ্রীমঙ্গলে বাস-পিকআপভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত-১
বিজ্ঞপ্তি :
অনলাইন সংবাদমাধ্যম ‘ভয়েস অব শ্রীমঙ্গল’ এ আপনাকে স্বাগতম। দেশব্যাপী জেলা, উপজেলা ও ক্যাম্পাস (মাদরাসা-কলেজ) প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। আগ্রহীরা যোগাযোগ করুন- ০১৬০১-৬০৮৬৮৮।

শুক্রবার থেকে শ্রীমঙ্গলে তিন দিনের হারমোনি ফেস্টিভ্যাল শুরু

সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ভয়েস অব শ্রীমঙ্গল:

টেকসই কালচারাল ট্যুরিজম বিকাশে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের উদ্যোগে ও উপজেলা প্রশাসন শ্রীমঙ্গলের সহযোগিতায়  পর্যটন নগরী মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ‘হারমোনি ফেস্টিভ্যাল সিজন-২ নামে ৩ দিনব্যাপী মেলার আয়োজন করা হয়েছে। 

শুক্রবার (১৯ জুন) বেলা ৩টায় উপজেলার ফুলছড়া মাঠে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মেলা উদ্বোধন করবেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মিজ আফরোজা খানম।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মিজ ফাহমিদা আক্তারের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখবেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এবং বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. আব্দুর রউফ।

মেলায় গেস্ট অফ অনার হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য এস নাসের রহমান, মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মিজ কানিজ মওলা।  

মেলায় বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন সিলেট বিভাগীয় কমিশনার মো. মশিউর রহমান, ট্যুরিস্ট পুলিশ বাংলাদেশের অতিরিক্ত আইজিপি মো. মাইনুল হাসান, সিলেট রেঞ্জ ডিআইজি ড. মো. জিল্লুর রহমান, মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল, পুলিশ সুপার মো. মনিরুল ইসলাম, ফিনলে চা এর প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা তাসিন আহমেদ চৌধুরী।

ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বর্ণিল জীবন ও সংস্কৃতির মেলবন্ধন এই হারমোনি ফেস্টিভাল মেলাকে সফল করার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে সকল প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন বলে জানিছে ট্যুরিজম বোর্ড ও শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রশাসন। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে ট্যুরিজম বোর্ডের আয়োজনে ও উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় শ্রীমঙ্গল উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। 

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের পরিচালক (যুগ্মসচিব) সালেহা বিনতে সিরাজ, শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিয়াউর রহমান, ট্যুরিজম বোর্ডের উপ-পরিচালক মহিবুল ইসলাম, শ্রীমঙ্গল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মহিবুল্লাহ আকন, শ্রীমঙ্গল থানার তদন্ত অফিসার আব্দুর রাজ্জাক প্রমুখ। 

সংবাদ সম্মেলনে ট্যুরিজম বোর্ডের পরিচালক (যুগ্মসচিব) সালেহা বিনতে সিরাজ জানান, পর্যটন শিল্পকে বিকশিত করতে ট্যুরিজম বোর্ডের উদ্যোগে আগামী ১৯-২১ জুন হারমোনি ফেস্টিভ্যাল চলবে। এতে স্থানীয় ২৭টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী স্টলের মাধ্যমে তাদের উৎপাদিত পণ্য, খাবার, জীবনাচার, পোষাক, ব্যবহৃত গহনা, শিকারে ব্যবহৃত তীর ধনুক ইত্যাদি প্রদর্শন ও বিক্রয় করতে পারবে। 

এছাড়াও তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি যেমন নাচ, গান, ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানসহ যাবতীয় বিষয়াদি দর্শনার্থীদের সামনে উপস্থাপনের সুযোগ পাবে। এ আয়োজন শ্রীমঙ্গল ও সংলগ্ন এলাকার ক্ষুদ্র ও নৃগোষ্ঠীদের জীবনধারা, সংস্কৃতি, উৎপাদিত পণ্যের প্রচারের মাধ্যমে পর্যটনশিল্পের বিকাশ সাধন করবে, তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। এর মাধ্যমে উক্ত অঞ্চলে কমিউনিটি বেইজড ট্যুরিজম সম্প্রসারিত হবে যা অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনে সহায়ক হবে।  

জানা গেছে, জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ, ট্যুরিস্ট পুলিশ, উপজেলা প্রশাসন শ্রীমঙ্গল, শ্রীমঙ্গল পৌরসভা, মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি, বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট, হোটেল রিসোর্ট, ট্যুর অপারেটর ট্যুর গাইড, ফিনলে চাসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংস্থা হারমোনি ফেস্টিভ্যাল সফল বাস্তবায়নের জন্য সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। এই মেলা উপলক্ষে ইতোমধ্যে স্থানীয় ট্যুর অপারেটর ও পর্যটন সংশ্লিষ্টরা বিভিন্ন প্যাকেজ ঘোষনা করেছেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে উৎসবের ব্যাপারে খোঁজ খবর নিতে শুরু করেছেন আগ্রহী ভ্রমন পিপাসুরা।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিয়াউর রহমান বলেন, পর্যটন শিল্পে পন্য উন্নয়ন ও প্রচারের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড প্রতিবছর এ আয়োজনটি চায়ের রাজধানী পর্যটন নগরী শ্রীমঙ্গলে একটি নির্দিষ্ট দিনে আয়োজনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এর ফলে ট্যুর অপারেটরগন ইনবাউন্ড প্যাকেজ প্রস্তুত ও বিপণন করতে সক্ষম হবে। একইসঙ্গে বিদেশী ট্যুরিস্টরা এ আয়োজনে অংশগ্রহণের জন্য পূর্বপ্রস্তুতি নিতে পারবে। এটি টেকসই সংস্কৃতি বিকাশ ও কালচারাল ট্যুরিজম প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।  উৎসব শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে উপজেলা প্রশাসনের পাশাপাশি ট্যুরিস্ট পুলিশ, শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশসহ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সবাই তৎপর রয়েছে বলে তিনি জানান

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে অঞ্চলভিত্তিক সুষম উন্নয়ন ও পর্যটন খাত অংশে কমিনিউটি ট্যুরিজম, এথনিক ও ওয়াটার ট্যুরিজম বিকাশের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে স্থান পেয়েছে। বাংলাদেশে বর্তমানে ৫০ টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী গেজেটভুক্ত রয়েছে তন্মধ্যে শ্রীমংগল ও তদসংলগ্ন এলাকায় গেজেটভুক্ত ২৬ টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে। এছাড়াও চা বাগান কেন্দ্রিক বসবাস রয়েছে বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী। 

বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় কর্তৃক ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের বিলুপ্তপ্রায় বৈচিত্রময় সংস্কৃতির পুনরদ্ধারের মাধ্যমে টেকসই রূপদানের লক্ষ্যে হারমোনি ফেস্টিভ্যাল আয়োজনে প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। সারাবিশ্বের ট্যুরিস্টদের নিকট একটি নির্দিষ্ট অঞ্চল বিশেষত  সেখানকার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের বৈচিত্রময় সংস্কৃতি ও জীবনধারা আকর্ষণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড বিদেশি ট্যুরিস্টদের নিকট অব্যহতভাবে হারমোনি ফেস্টিভ্যাল আয়োজনের মাধ্যমে বৈচিত্রময় সংস্কৃতি ও উৎসব তুলে ধরতে চায়।

ট্যুরিজম বোর্ড ও উপজেলা প্রশাসন সুত্রে জানা গেছে, হারমোনি ফেস্টিভ্যালে খাসিয়া, গারো, মনিপুরি, ত্রিপুরা, সবর, খাড়িয়া, রিকিয়াসন, বাড়াইক, কন্দ, রাজবল্বব, ভূইয়া, সাঁওতাল, ওরাও,লোহার, মুন্ডা, কুর্মী, ভূমিজ, বুনারাজি, গঞ্জ, মৃধা, তেলেগু, গৌড় সমাজ, রবিদাস, পাইনকা, কৌরি/ভুজপুরী, কালিন্দি, কড়াসহ শ্রীমঙ্গল ও সংলগ্ন এলাকার ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী অংশগ্রহণ করবে। প্রতিটি নৃগোষ্ঠী তাদের বৈচিত্রময় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তুলে ধরবে এ আয়োজনের মাধ্যমে। সবর জনগোষ্ঠীর সবরী নৃত্য, ভজন নৃত্য ও বোনাকাড়ো নৃত্য, খাড়িয়াদের ঝুমুর ও খাড়িয়া নৃত্য, রিকিয়াসনদের মুশোরি নৃত্য, ঝুমুর নৃত্য ও লাঠি নৃত্য, বাড়াইকদের ডমকচ নৃত্য, ভীনসারি নৃত্য ও ঝুমুর নৃত্য, কন্দদের কুই নৃত্য, রাজবল্ববদের কিরংগ লগইলু নৃত্য ও দহি আনিচিরে নৃত্য, ভূইয়াদের ভূইয়া গীত, সাঁওতালদের লাগড়ে নৃত্য ও দং নৃত্য, ওরাওদের ওরাও নৃত্য, মুন্ডাদের মুন্ডারি নৃত্য ও ঝুমুর নৃত্য, কুর্মীদের কুরমালি নৃত্য, ভূমিজদের ঝুমুর নৃত্য, বুনারাজিদের অলেখ্য ভোজন, সম্বল পুরিয়া নৃত্য ও মংলা নৃত্য, লোহারদের ভুজপুরি রামায়ন কীর্তন, গঞ্জুদের রঙ ঝুমুর ও আসাম নৃত্য, তেলেগুদের গানতি বাজনি (ডাল তেলু) ও সেলতেলু (কাঠি নৃত্য), কড়াদের ঝুমুর নৃত্য ও ধামসি কড়া নৃত্য, খাসিয়াদের ঐতিহ্যবাহী পোষাক ডিয়া কেরছা ও মালা পরিধানের মাধ্যমে নাচ ও গান, তীর ধনুক প্রতিযোগিতা, সীয়াট বাটুর (গুলতি দিয়ে খেলা), কিউ থেনেং (তৈলাক্ত বাঁশে উঠার প্রতিযোগিতা), গৌড়দের লাঠি নৃত্য, কার্মা নাচ ও দাদারিয়া গীত, মৃধাদের লাঠি নৃত্য ও ঝুমুর নৃত্য, কৈরী/ভুজপুরিদের ভজন সংগীত, লাচারি ও পুরবী সংগীত, ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর কাথারক নৃত্য, বৈসু নৃত্য, জুম নৃত্য, মামিটা নৃত্য ও আতারঙ চাকহাই নৃত্য, গারো জনগোষ্ঠীর মান্দি নৃত্য, গারো জুম চাষা নৃত্য, ওয়ানগালা উৎসব প্রদর্শন, ও সেরেনজিং নৃত্য (প্রেম কাহিনীর গান), মনিপুরি জনগোষ্ঠী রাস লীলা নৃত্য, পুং চলোম নৃত্য (ঢোল নৃত্য) এবং রাধা কৃষ্ণ নৃত্য, রবিদাসদের রাজধারী নৃত্য ও পুরবী বিরহা গান, পাইনকাদের কারমা গীত ও দাদারিয়া গীত, ভূইয়াদের ভূইয়া গীত এবং কালিন্দিদের কালিন্দি ঝুমুর নৃত্য প্রদর্শিত হবে। এছাড়াও খাসিয়া জনগোষ্ঠীদের পান নিয়ে লাইভ পরিবেশনা, ত্রিপুরাদের কোমর তাত, মনিপুরিদের লাইভতাত, চা প্রদর্শনী, কুমারদের লাইভ মাটির জিনিসপত্র প্রস্তুত এবং সিলেটের ঐতিহ্যবাহী ধামাইল নৃত্যও পরিবেশন করা হবে।

খাসিয়া জনগোষ্ঠীদের পান নিয়ে লাইভ পরিবেশনা, মনিপুরিদের লাইভ তাত, হোমস্টে, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের কাঠ ও বাশের সামগ্রী লাইভ প্রস্তুত, কুমারদের লাইভ মাটির জিনিসপত্র প্রস্তুত করা হবে। হারমোনি ফেস্টিভ্যালের এ আয়োজনে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প ফাউন্ডেশন এর ১০ টি স্টল থাকবে যেখানে তাদের উদ্যোক্তাগণ ঐতিহ্যবাহী পণ্য নিয়ে অংশগ্রহণ করবে। 

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০৬:০৪:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
  • / ৫২৯ বার পড়া হয়েছে
    • আপনি কি আমাদের ওয়েবসাইট এর নিয়মিত দর্শক..?

      View Results

      Loading ... Loading ...
  • পুরনো ফলাফল
    Logo
    শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
    ফজর৪:৩৮
    যোহর১১:৪৬
    আসর৪:২৬
    মাগরিব৫:৩৮
    ইশা৬:৪৯
    সূর্যোদয় :৫:৫৩সূর্যাস্ত :৫:৩৮
    স্বত্ব © ভয়েস অব শ্রীমঙ্গল
    ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD

    শুক্রবার থেকে শ্রীমঙ্গলে তিন দিনের হারমোনি ফেস্টিভ্যাল শুরু

    আপডেট সময় : ০৬:০৪:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

    নিজস্ব প্রতিবেদক, ভয়েস অব শ্রীমঙ্গল:

    টেকসই কালচারাল ট্যুরিজম বিকাশে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের উদ্যোগে ও উপজেলা প্রশাসন শ্রীমঙ্গলের সহযোগিতায়  পর্যটন নগরী মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ‘হারমোনি ফেস্টিভ্যাল সিজন-২ নামে ৩ দিনব্যাপী মেলার আয়োজন করা হয়েছে। 

    শুক্রবার (১৯ জুন) বেলা ৩টায় উপজেলার ফুলছড়া মাঠে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মেলা উদ্বোধন করবেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মিজ আফরোজা খানম।

    বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মিজ ফাহমিদা আক্তারের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখবেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এবং বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. আব্দুর রউফ।

    মেলায় গেস্ট অফ অনার হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য এস নাসের রহমান, মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মিজ কানিজ মওলা।  

    মেলায় বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন সিলেট বিভাগীয় কমিশনার মো. মশিউর রহমান, ট্যুরিস্ট পুলিশ বাংলাদেশের অতিরিক্ত আইজিপি মো. মাইনুল হাসান, সিলেট রেঞ্জ ডিআইজি ড. মো. জিল্লুর রহমান, মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল, পুলিশ সুপার মো. মনিরুল ইসলাম, ফিনলে চা এর প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা তাসিন আহমেদ চৌধুরী।

    ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বর্ণিল জীবন ও সংস্কৃতির মেলবন্ধন এই হারমোনি ফেস্টিভাল মেলাকে সফল করার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে সকল প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন বলে জানিছে ট্যুরিজম বোর্ড ও শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রশাসন। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে ট্যুরিজম বোর্ডের আয়োজনে ও উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় শ্রীমঙ্গল উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। 

    সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের পরিচালক (যুগ্মসচিব) সালেহা বিনতে সিরাজ, শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিয়াউর রহমান, ট্যুরিজম বোর্ডের উপ-পরিচালক মহিবুল ইসলাম, শ্রীমঙ্গল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মহিবুল্লাহ আকন, শ্রীমঙ্গল থানার তদন্ত অফিসার আব্দুর রাজ্জাক প্রমুখ। 

    সংবাদ সম্মেলনে ট্যুরিজম বোর্ডের পরিচালক (যুগ্মসচিব) সালেহা বিনতে সিরাজ জানান, পর্যটন শিল্পকে বিকশিত করতে ট্যুরিজম বোর্ডের উদ্যোগে আগামী ১৯-২১ জুন হারমোনি ফেস্টিভ্যাল চলবে। এতে স্থানীয় ২৭টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী স্টলের মাধ্যমে তাদের উৎপাদিত পণ্য, খাবার, জীবনাচার, পোষাক, ব্যবহৃত গহনা, শিকারে ব্যবহৃত তীর ধনুক ইত্যাদি প্রদর্শন ও বিক্রয় করতে পারবে। 

    এছাড়াও তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি যেমন নাচ, গান, ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানসহ যাবতীয় বিষয়াদি দর্শনার্থীদের সামনে উপস্থাপনের সুযোগ পাবে। এ আয়োজন শ্রীমঙ্গল ও সংলগ্ন এলাকার ক্ষুদ্র ও নৃগোষ্ঠীদের জীবনধারা, সংস্কৃতি, উৎপাদিত পণ্যের প্রচারের মাধ্যমে পর্যটনশিল্পের বিকাশ সাধন করবে, তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। এর মাধ্যমে উক্ত অঞ্চলে কমিউনিটি বেইজড ট্যুরিজম সম্প্রসারিত হবে যা অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনে সহায়ক হবে।  

    জানা গেছে, জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ, ট্যুরিস্ট পুলিশ, উপজেলা প্রশাসন শ্রীমঙ্গল, শ্রীমঙ্গল পৌরসভা, মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি, বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট, হোটেল রিসোর্ট, ট্যুর অপারেটর ট্যুর গাইড, ফিনলে চাসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংস্থা হারমোনি ফেস্টিভ্যাল সফল বাস্তবায়নের জন্য সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। এই মেলা উপলক্ষে ইতোমধ্যে স্থানীয় ট্যুর অপারেটর ও পর্যটন সংশ্লিষ্টরা বিভিন্ন প্যাকেজ ঘোষনা করেছেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে উৎসবের ব্যাপারে খোঁজ খবর নিতে শুরু করেছেন আগ্রহী ভ্রমন পিপাসুরা।

    শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিয়াউর রহমান বলেন, পর্যটন শিল্পে পন্য উন্নয়ন ও প্রচারের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড প্রতিবছর এ আয়োজনটি চায়ের রাজধানী পর্যটন নগরী শ্রীমঙ্গলে একটি নির্দিষ্ট দিনে আয়োজনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এর ফলে ট্যুর অপারেটরগন ইনবাউন্ড প্যাকেজ প্রস্তুত ও বিপণন করতে সক্ষম হবে। একইসঙ্গে বিদেশী ট্যুরিস্টরা এ আয়োজনে অংশগ্রহণের জন্য পূর্বপ্রস্তুতি নিতে পারবে। এটি টেকসই সংস্কৃতি বিকাশ ও কালচারাল ট্যুরিজম প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।  উৎসব শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে উপজেলা প্রশাসনের পাশাপাশি ট্যুরিস্ট পুলিশ, শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশসহ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সবাই তৎপর রয়েছে বলে তিনি জানান

    সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে অঞ্চলভিত্তিক সুষম উন্নয়ন ও পর্যটন খাত অংশে কমিনিউটি ট্যুরিজম, এথনিক ও ওয়াটার ট্যুরিজম বিকাশের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে স্থান পেয়েছে। বাংলাদেশে বর্তমানে ৫০ টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী গেজেটভুক্ত রয়েছে তন্মধ্যে শ্রীমংগল ও তদসংলগ্ন এলাকায় গেজেটভুক্ত ২৬ টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে। এছাড়াও চা বাগান কেন্দ্রিক বসবাস রয়েছে বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী। 

    বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় কর্তৃক ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের বিলুপ্তপ্রায় বৈচিত্রময় সংস্কৃতির পুনরদ্ধারের মাধ্যমে টেকসই রূপদানের লক্ষ্যে হারমোনি ফেস্টিভ্যাল আয়োজনে প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। সারাবিশ্বের ট্যুরিস্টদের নিকট একটি নির্দিষ্ট অঞ্চল বিশেষত  সেখানকার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের বৈচিত্রময় সংস্কৃতি ও জীবনধারা আকর্ষণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড বিদেশি ট্যুরিস্টদের নিকট অব্যহতভাবে হারমোনি ফেস্টিভ্যাল আয়োজনের মাধ্যমে বৈচিত্রময় সংস্কৃতি ও উৎসব তুলে ধরতে চায়।

    ট্যুরিজম বোর্ড ও উপজেলা প্রশাসন সুত্রে জানা গেছে, হারমোনি ফেস্টিভ্যালে খাসিয়া, গারো, মনিপুরি, ত্রিপুরা, সবর, খাড়িয়া, রিকিয়াসন, বাড়াইক, কন্দ, রাজবল্বব, ভূইয়া, সাঁওতাল, ওরাও,লোহার, মুন্ডা, কুর্মী, ভূমিজ, বুনারাজি, গঞ্জ, মৃধা, তেলেগু, গৌড় সমাজ, রবিদাস, পাইনকা, কৌরি/ভুজপুরী, কালিন্দি, কড়াসহ শ্রীমঙ্গল ও সংলগ্ন এলাকার ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী অংশগ্রহণ করবে। প্রতিটি নৃগোষ্ঠী তাদের বৈচিত্রময় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তুলে ধরবে এ আয়োজনের মাধ্যমে। সবর জনগোষ্ঠীর সবরী নৃত্য, ভজন নৃত্য ও বোনাকাড়ো নৃত্য, খাড়িয়াদের ঝুমুর ও খাড়িয়া নৃত্য, রিকিয়াসনদের মুশোরি নৃত্য, ঝুমুর নৃত্য ও লাঠি নৃত্য, বাড়াইকদের ডমকচ নৃত্য, ভীনসারি নৃত্য ও ঝুমুর নৃত্য, কন্দদের কুই নৃত্য, রাজবল্ববদের কিরংগ লগইলু নৃত্য ও দহি আনিচিরে নৃত্য, ভূইয়াদের ভূইয়া গীত, সাঁওতালদের লাগড়ে নৃত্য ও দং নৃত্য, ওরাওদের ওরাও নৃত্য, মুন্ডাদের মুন্ডারি নৃত্য ও ঝুমুর নৃত্য, কুর্মীদের কুরমালি নৃত্য, ভূমিজদের ঝুমুর নৃত্য, বুনারাজিদের অলেখ্য ভোজন, সম্বল পুরিয়া নৃত্য ও মংলা নৃত্য, লোহারদের ভুজপুরি রামায়ন কীর্তন, গঞ্জুদের রঙ ঝুমুর ও আসাম নৃত্য, তেলেগুদের গানতি বাজনি (ডাল তেলু) ও সেলতেলু (কাঠি নৃত্য), কড়াদের ঝুমুর নৃত্য ও ধামসি কড়া নৃত্য, খাসিয়াদের ঐতিহ্যবাহী পোষাক ডিয়া কেরছা ও মালা পরিধানের মাধ্যমে নাচ ও গান, তীর ধনুক প্রতিযোগিতা, সীয়াট বাটুর (গুলতি দিয়ে খেলা), কিউ থেনেং (তৈলাক্ত বাঁশে উঠার প্রতিযোগিতা), গৌড়দের লাঠি নৃত্য, কার্মা নাচ ও দাদারিয়া গীত, মৃধাদের লাঠি নৃত্য ও ঝুমুর নৃত্য, কৈরী/ভুজপুরিদের ভজন সংগীত, লাচারি ও পুরবী সংগীত, ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর কাথারক নৃত্য, বৈসু নৃত্য, জুম নৃত্য, মামিটা নৃত্য ও আতারঙ চাকহাই নৃত্য, গারো জনগোষ্ঠীর মান্দি নৃত্য, গারো জুম চাষা নৃত্য, ওয়ানগালা উৎসব প্রদর্শন, ও সেরেনজিং নৃত্য (প্রেম কাহিনীর গান), মনিপুরি জনগোষ্ঠী রাস লীলা নৃত্য, পুং চলোম নৃত্য (ঢোল নৃত্য) এবং রাধা কৃষ্ণ নৃত্য, রবিদাসদের রাজধারী নৃত্য ও পুরবী বিরহা গান, পাইনকাদের কারমা গীত ও দাদারিয়া গীত, ভূইয়াদের ভূইয়া গীত এবং কালিন্দিদের কালিন্দি ঝুমুর নৃত্য প্রদর্শিত হবে। এছাড়াও খাসিয়া জনগোষ্ঠীদের পান নিয়ে লাইভ পরিবেশনা, ত্রিপুরাদের কোমর তাত, মনিপুরিদের লাইভতাত, চা প্রদর্শনী, কুমারদের লাইভ মাটির জিনিসপত্র প্রস্তুত এবং সিলেটের ঐতিহ্যবাহী ধামাইল নৃত্যও পরিবেশন করা হবে।

    খাসিয়া জনগোষ্ঠীদের পান নিয়ে লাইভ পরিবেশনা, মনিপুরিদের লাইভ তাত, হোমস্টে, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের কাঠ ও বাশের সামগ্রী লাইভ প্রস্তুত, কুমারদের লাইভ মাটির জিনিসপত্র প্রস্তুত করা হবে। হারমোনি ফেস্টিভ্যালের এ আয়োজনে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প ফাউন্ডেশন এর ১০ টি স্টল থাকবে যেখানে তাদের উদ্যোক্তাগণ ঐতিহ্যবাহী পণ্য নিয়ে অংশগ্রহণ করবে।