1. admin@voiceofsreemangal.com : নিজস্ব প্রতিবেদক :
শ্রীমঙ্গল ০৩:১৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
Coronavirus disease 2019 দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে শ্রীমঙ্গলে বিএনপি নেতা তাজ উদ্দিন তাজুকে অব্যাহতি শ্রীমঙ্গলে তালামীযের কাউন্সিল সম্পন্ন; শায়েল সভাপতি, আরাফাত সেক্রেটারি শ্রীমঙ্গলে চুরি ও মাদকের বিরুদ্ধে সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত শ্রীমঙ্গলে এনসিপির যুবশক্তির ২৭ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন বইপড়া উৎসবে ফিরছে শিক্ষার্থীদের বইপড়ার অভ্যাস শ্রীমঙ্গলে ফিরেই নাগরিক সংবর্ধনায় এমপি হাজী মুজিব জুলাইয়ের চেতনা ধারণ করলে নতুন বাংলাদেশ গড়া সম্ভব: তাওহীদুল ইসলাম তুহিন শ্রীমঙ্গলে ‘ইতিহাসের আয়নায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান’ শীর্ষক আলোচনা সভা কাল মৌলভীবাজারে ‘ফিরে দেখা জুলাই’, বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠনের প্রত্যয়
বিজ্ঞপ্তি :
অনলাইন সংবাদমাধ্যম ‘ভয়েস অব শ্রীমঙ্গল’ এ আপনাকে স্বাগতম। দেশব্যাপী জেলা, উপজেলা ও ক্যাম্পাস (মাদরাসা-কলেজ) প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। আগ্রহীরা যোগাযোগ করুন- ০১৬০১-৬০৮৬৮৮।

আজ বিশ্ব চা দিবস: এক কাপ চায়ে বিশ্বজুড়ে ভালোবাসা

সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
২৭৩

ভয়েস অব শ্রীমঙ্গল ডেস্ক:

সকালের ঘুম ভাঙা থেকে শুরু করে বিকেলের আড্ডা—এক কাপ চা যেন মানুষের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ক্লান্তি দূর করা, মন ভালো করা কিংবা বৃষ্টিভেজা বিকেলে নিঃসঙ্গতা কাটানোর সঙ্গী হিসেবেও চায়ের জনপ্রিয়তা অনন্য। আর তাই পানির পর বিশ্বে সবচেয়ে বেশি পান করা পানীয় হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে চা।
প্রতি বছর ২১ মে পালিত হয় ‘বিশ্ব চা দিবস’। চা শ্রমিকদের অধিকার, চা শিল্পের গুরুত্ব এবং বিশ্বজুড়ে চায়ের সাংস্কৃতিক প্রভাব তুলে ধরতেই দিবসটি পালন করা হয়।

বিশ্বব্যাপী চা দিবস পালনের উদ্যোগ শুরু হয় ২০০৫ সালে। বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, কেনিয়া, মালয়েশিয়া, উগান্ডা ও তানজানিয়াসহ কয়েকটি চা উৎপাদনকারী দেশ প্রথম এ উদ্যোগ নেয়। শুরুতে ২১ ডিসেম্বর দিবসটি পালন করা হলেও পরে ২০১৯ সালে জাতিসংঘ ২১ মে-কে ‘বিশ্ব চা দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। ২০২০ সাল থেকে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার সহযোগিতায় আনুষ্ঠানিকভাবে দিবসটি পালন করা হচ্ছে।

চায়ের ইতিহাসও বেশ প্রাচীন ও আকর্ষণীয়। ধারণা করা হয়, প্রায় পাঁচ হাজার বছর আগে চীনে প্রথম চায়ের প্রচলন শুরু হয়। প্রচলিত একটি কাহিনি অনুযায়ী, চীনের সম্রাট শেন নং গরম পানির পাত্রে হঠাৎ কিছু পাতা পড়ে যাওয়ার পর সেই পানি পান করেন। সেখান থেকেই চায়ের স্বাদ ও গুণাগুণের আবিষ্কার বলে মনে করা হয়।
পরবর্তীতে চা চীন থেকে জাপান, কোরিয়া ও এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে জাপানে চা শুধু পানীয় নয়, বরং একটি ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি ও আচার-অনুষ্ঠানের অংশে পরিণত হয়, যা ‘চা অনুষ্ঠান’ নামে পরিচিত।

সপ্তদশ শতকে ইউরোপীয় বণিকদের হাত ধরে চা পৌঁছে যায় ইউরোপে। পর্তুগিজ ও ডাচ ব্যবসায়ীরা চীন থেকে চা আমদানি শুরু করলে ধীরে ধীরে ইউরোপে এর জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে। পরে ব্রিটিশদের মাধ্যমে ভারত, শ্রীলঙ্কাসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে গড়ে ওঠে বিশাল চা বাগান। সেই থেকেই দক্ষিণ এশিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ বিশ্ব চা উৎপাদনের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পায়।

সাহিত্যেও চায়ের উপস্থিতি কম নয়। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার ‘কণিকা’ কাব্যগ্রন্থে চায়ের পাত্রকে ঘিরে মজার ছলে লিখেছিলেন— “চায়ের পাত্র বলে, আমি না হলে কি চলত চায়ের উৎসব?

চামচ বলে, আমি না থাকলে চলত না যে সব।”
বর্তমানে চা শুধু একটি পানীয় নয়; এটি মানুষের আবেগ, সংস্কৃতি, আতিথেয়তা ও সামাজিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। এক কাপ চায়ের সঙ্গে জড়িয়ে আছে ইতিহাস, ঐতিহ্য আর অসংখ্য মানুষের গল্প।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ১০:৩৬:০৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
  • / ৭০৪ বার পড়া হয়েছে
    • আপনি কি আমাদের ওয়েবসাইট এর নিয়মিত দর্শক..?

      View Results

      Loading ... Loading ...
  • পুরনো ফলাফল
    Logo
    শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
    ফজর৪:৩৮
    যোহর১১:৪৬
    আসর৪:২৬
    মাগরিব৫:৩৮
    ইশা৬:৪৯
    সূর্যোদয় :৫:৫৩সূর্যাস্ত :৫:৩৮
    স্বত্ব © ভয়েস অব শ্রীমঙ্গল
    ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD

    আজ বিশ্ব চা দিবস: এক কাপ চায়ে বিশ্বজুড়ে ভালোবাসা

    আপডেট সময় : ১০:৩৬:০৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
    ২৭৩

    ভয়েস অব শ্রীমঙ্গল ডেস্ক:

    সকালের ঘুম ভাঙা থেকে শুরু করে বিকেলের আড্ডা—এক কাপ চা যেন মানুষের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ক্লান্তি দূর করা, মন ভালো করা কিংবা বৃষ্টিভেজা বিকেলে নিঃসঙ্গতা কাটানোর সঙ্গী হিসেবেও চায়ের জনপ্রিয়তা অনন্য। আর তাই পানির পর বিশ্বে সবচেয়ে বেশি পান করা পানীয় হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে চা।
    প্রতি বছর ২১ মে পালিত হয় ‘বিশ্ব চা দিবস’। চা শ্রমিকদের অধিকার, চা শিল্পের গুরুত্ব এবং বিশ্বজুড়ে চায়ের সাংস্কৃতিক প্রভাব তুলে ধরতেই দিবসটি পালন করা হয়।

    বিশ্বব্যাপী চা দিবস পালনের উদ্যোগ শুরু হয় ২০০৫ সালে। বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, কেনিয়া, মালয়েশিয়া, উগান্ডা ও তানজানিয়াসহ কয়েকটি চা উৎপাদনকারী দেশ প্রথম এ উদ্যোগ নেয়। শুরুতে ২১ ডিসেম্বর দিবসটি পালন করা হলেও পরে ২০১৯ সালে জাতিসংঘ ২১ মে-কে ‘বিশ্ব চা দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। ২০২০ সাল থেকে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার সহযোগিতায় আনুষ্ঠানিকভাবে দিবসটি পালন করা হচ্ছে।

    চায়ের ইতিহাসও বেশ প্রাচীন ও আকর্ষণীয়। ধারণা করা হয়, প্রায় পাঁচ হাজার বছর আগে চীনে প্রথম চায়ের প্রচলন শুরু হয়। প্রচলিত একটি কাহিনি অনুযায়ী, চীনের সম্রাট শেন নং গরম পানির পাত্রে হঠাৎ কিছু পাতা পড়ে যাওয়ার পর সেই পানি পান করেন। সেখান থেকেই চায়ের স্বাদ ও গুণাগুণের আবিষ্কার বলে মনে করা হয়।
    পরবর্তীতে চা চীন থেকে জাপান, কোরিয়া ও এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে জাপানে চা শুধু পানীয় নয়, বরং একটি ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি ও আচার-অনুষ্ঠানের অংশে পরিণত হয়, যা ‘চা অনুষ্ঠান’ নামে পরিচিত।

    সপ্তদশ শতকে ইউরোপীয় বণিকদের হাত ধরে চা পৌঁছে যায় ইউরোপে। পর্তুগিজ ও ডাচ ব্যবসায়ীরা চীন থেকে চা আমদানি শুরু করলে ধীরে ধীরে ইউরোপে এর জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে। পরে ব্রিটিশদের মাধ্যমে ভারত, শ্রীলঙ্কাসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে গড়ে ওঠে বিশাল চা বাগান। সেই থেকেই দক্ষিণ এশিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ বিশ্ব চা উৎপাদনের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পায়।

    সাহিত্যেও চায়ের উপস্থিতি কম নয়। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার ‘কণিকা’ কাব্যগ্রন্থে চায়ের পাত্রকে ঘিরে মজার ছলে লিখেছিলেন— “চায়ের পাত্র বলে, আমি না হলে কি চলত চায়ের উৎসব?

    চামচ বলে, আমি না থাকলে চলত না যে সব।”
    বর্তমানে চা শুধু একটি পানীয় নয়; এটি মানুষের আবেগ, সংস্কৃতি, আতিথেয়তা ও সামাজিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। এক কাপ চায়ের সঙ্গে জড়িয়ে আছে ইতিহাস, ঐতিহ্য আর অসংখ্য মানুষের গল্প।