1. admin@voiceofsreemangal.com : নিজস্ব প্রতিবেদক :
শ্রীমঙ্গল ০৩:৪৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞপ্তি :
অনলাইন সংবাদমাধ্যম ‘ভয়েস অব শ্রীমঙ্গল’ এ আপনাকে স্বাগতম। দেশব্যাপী জেলা, উপজেলা ও ক্যাম্পাস (মাদরাসা-কলেজ) প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। আগ্রহীরা যোগাযোগ করুন- ০১৬০১-৬০৮৬৮৮।

আলো ও আঁধারের মা

সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

উম্মে নাবহান

নাম তার রাবেয়া খাতুন। একটি মফস্বল শহরের এক সাধারণ ঘরের গৃহবধূ। স্বামী ছিল ছোটখাটো চাকরিজীবী, সংসার চলত টানাটানিতে। কিন্তু হঠাৎ একদিন স্বামীটা দুর্ঘটনায় মারা গেল। তখন রাবেয়ার বয়স মাত্র ৩২, কোলে তিন বছরের এক ছেলে আর স্কুলপড়ুয়া মেয়ে।

সবার মুখের একটাই কথা ছিল, “এই মেয়ে তো শেষ!”
কেউ বলেছিল, “বাচ্চাদের অনাথ আশ্রমে দিয়ে দিক।”
কেউবা পরামর্শ দিল, “আরেকটা বিয়ে করে ফেলুক।”

কিন্তু রাবেয়া হার মানেনি। সকালে মানুষের বাসায় বাসায় কাজ করত—ঝি-এর কাজ, দুপুরে স্কুলে খিচুড়ি রান্না করত, রাতে এক টিউশনি নিত। এক টাকাও নিজের জন্য খরচ করত না। মেয়েকে স্কুলে ভর্তি রাখল, ছেলেকে নিজের হাতে মানুষ করল।

দিনে দিনে মেয়েটা কলেজে উঠল, ছেলেটা ক্লাসে প্রথম হতো। প্রতিবেশীরা এখন আর তাকে “অসহায় বিধবা” বলে না, বলে—“আশ্চর্য এক মেয়ে, শক্তির প্রতিমূর্তি।”

বছর দশেক পর মেয়েটা সরকারি চাকরিতে ঢুকল, ছেলেটা পড়তে গেল বিশ্ববিদ্যালয়ে। রাবেয়ার চোখে পানি এল, কিন্তু মুখে হাসি।
সে বলল, “আমি তো কেবল মা ছিলাম, নিজের স্বপ্ন কখনো দেখিনি। ওরা আজ আমার স্বপ্ন হয়ে উঠেছে।”

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০৮:১৫:১৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ জুলাই ২০২৫
  • / ১২১৩ বার পড়া হয়েছে
Logo
বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ফজর৪:৩৮
যোহর১১:৪৬
আসর৪:২৬
মাগরিব৫:৩৮
ইশা৬:৪৯
সূর্যোদয় :৫:৫৩সূর্যাস্ত :৫:৩৮
স্বত্ব © ভয়েস অব শ্রীমঙ্গল
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD

আলো ও আঁধারের মা

আপডেট সময় : ০৮:১৫:১৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ জুলাই ২০২৫

উম্মে নাবহান

নাম তার রাবেয়া খাতুন। একটি মফস্বল শহরের এক সাধারণ ঘরের গৃহবধূ। স্বামী ছিল ছোটখাটো চাকরিজীবী, সংসার চলত টানাটানিতে। কিন্তু হঠাৎ একদিন স্বামীটা দুর্ঘটনায় মারা গেল। তখন রাবেয়ার বয়স মাত্র ৩২, কোলে তিন বছরের এক ছেলে আর স্কুলপড়ুয়া মেয়ে।

সবার মুখের একটাই কথা ছিল, “এই মেয়ে তো শেষ!”
কেউ বলেছিল, “বাচ্চাদের অনাথ আশ্রমে দিয়ে দিক।”
কেউবা পরামর্শ দিল, “আরেকটা বিয়ে করে ফেলুক।”

কিন্তু রাবেয়া হার মানেনি। সকালে মানুষের বাসায় বাসায় কাজ করত—ঝি-এর কাজ, দুপুরে স্কুলে খিচুড়ি রান্না করত, রাতে এক টিউশনি নিত। এক টাকাও নিজের জন্য খরচ করত না। মেয়েকে স্কুলে ভর্তি রাখল, ছেলেকে নিজের হাতে মানুষ করল।

দিনে দিনে মেয়েটা কলেজে উঠল, ছেলেটা ক্লাসে প্রথম হতো। প্রতিবেশীরা এখন আর তাকে “অসহায় বিধবা” বলে না, বলে—“আশ্চর্য এক মেয়ে, শক্তির প্রতিমূর্তি।”

বছর দশেক পর মেয়েটা সরকারি চাকরিতে ঢুকল, ছেলেটা পড়তে গেল বিশ্ববিদ্যালয়ে। রাবেয়ার চোখে পানি এল, কিন্তু মুখে হাসি।
সে বলল, “আমি তো কেবল মা ছিলাম, নিজের স্বপ্ন কখনো দেখিনি। ওরা আজ আমার স্বপ্ন হয়ে উঠেছে।”