1. admin@voiceofsreemangal.com : নিজস্ব প্রতিবেদক :
শ্রীমঙ্গল ০৪:২৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
বইপড়া উৎসবে ফিরছে শিক্ষার্থীদের বইপড়ার অভ্যাস শ্রীমঙ্গলে ফিরেই নাগরিক সংবর্ধনায় এমপি হাজী মুজিব জুলাইয়ের চেতনা ধারণ করলে নতুন বাংলাদেশ গড়া সম্ভব: তাওহীদুল ইসলাম তুহিন শ্রীমঙ্গলে ‘ইতিহাসের আয়নায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান’ শীর্ষক আলোচনা সভা কাল মৌলভীবাজারে ‘ফিরে দেখা জুলাই’, বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠনের প্রত্যয় শ্রীমঙ্গলে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত, শহীদদের স্মরণে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবসে শ্রীমঙ্গল আইডিয়াল স্কুলে নানা আয়োজন শহীদ ও আহতদের স্মরণে শ্রীমঙ্গলে ইসলামী যুব মজলিসের বৃক্ষরোপণ ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে শ্রীমঙ্গলে অভিযান, ৬ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা শ্রীমঙ্গলে অসহায় পরিবারের মাঝে ছাগল বিতরণ করেছে শায়খ বর্ণভী রহ. ফাউন্ডেশন
বিজ্ঞপ্তি :
অনলাইন সংবাদমাধ্যম ‘ভয়েস অব শ্রীমঙ্গল’ এ আপনাকে স্বাগতম। দেশব্যাপী জেলা, উপজেলা ও ক্যাম্পাস (মাদরাসা-কলেজ) প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। আগ্রহীরা যোগাযোগ করুন- ০১৬০১-৬০৮৬৮৮।

বইপড়া উৎসবে ফিরছে শিক্ষার্থীদের বইপড়ার অভ্যাস

সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

অনলাইন ডেস্ক :

টিফিনের বিরতিতে কয়েকজন শিক্ষার্থী বসে শ্রেনীকক্ষে, তাদের কারও হাতে সৈয়দ মুজতবা আলীর দেশে বিদেশে, কারও হাতে জর্জ অরওয়েলের অ্যানিমেল ফার্ম। কেউ বা আবার পড়ছে জুল ভার্নের অ্যারাউন্ড দ্য ওয়ার্ল্ড ইন এইটি ডেজ। স্কুলের টিফিন টাইমে যেখানে হাল্কা নাস্তা শেষে খেলাধুলা ও আড্ডায় মজার কথা সেখানে শিক্ষার্থীরা অবসর সময়ে বই বই পড়ছে।

মঙ্গলবার দুপুরে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে গিয়ে এমন চিত্রই দেখা যায়। শুধু ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাই নয়৷ পুরো উপজেলার ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে অনার্স পর্যন্ত
৩৮ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এর শিক্ষার্থীরা বই পড়া উতসবে অংশ নিতে নির্ধারিত বই পড়ছে।

পাঠ্যবইয়ের গণ্ডি পেরিয়ে গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, কবিতা, ইতিহাস ও বিজ্ঞানভিত্তিক বইয়ের প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়াতে এমন উদ্যোগ নিয়েছে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রশাসন। উৎসবের সমন্বয় সহযোগী হিসেবে রয়েছে শ্রীমঙ্গল আবৃত্তি উৎসব এবং পাঠ সহযোগী হিসেবে রয়েছে উত্তরণ।

বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বলছেন, উৎসব বা প্রতিযোগিতা যাই হোক না কেন এই একটা দুইটা বই পড়ে শিক্ষার্থীদের বই পড়ার প্রতি আকর্ষণ বাড়বে, বই পড়ার অভ্যাস তৈরী হচ্ছে।।

আয়োজকরা জানা, বই পড়ি, মন গড়ি’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত শ্রীমঙ্গল বইপড়া উৎসব-২০২৬-এ ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে ডিগ্রি ও অনার্স পর্যায় পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্বসাহিত্য ও বাংলা সাহিত্যের ১৪টি বই নির্বাচন করা হয়েছে।

উৎসবে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে ডিগ্রি (পাস) ও অনার্স পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বাংলা ও বিশ্বসাহিত্যের ১৪টি বই নির্বাচন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আবদুল্লাহ আল-মুতী শরফুদ্দিনের আবিষ্কারের নেশায়, ড. এ. পি. জে. আবদুল কালামের উইংস অব ফায়ার, শাহেদ আলীর জিবরাইলের ডানা, জুল ভার্নের অ্যারাউন্ড দ্য ওয়ার্ল্ড ইন এইটি ডেজ, হুমায়ুন আজাদের লাল নীল দীপাবলী বা বাঙলা সাহিত্যের জীবনী, জর্জ অরওয়েলের অ্যানিমেল ফার্ম, মুহম্মদ আব্দুল হাইয়ের বিলেতে সাড়ে সাতশ দিন, কাজী নজরুল ইসলামের মরু-ভাস্কর ও মৃত্যুক্ষুধা, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রাশিয়ার চিঠি, সৈয়দ মুজতবা আলীর দেশে বিদেশে, জহির রায়হানের আরেক ফাল্গুন, আনোয়ার পাশার রাইফেল, রোটি, আওরাত এবং বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের আরণ্যক। উন্মুক্ত বিভাগের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে কাজী নজরুল ইসলামের রাজবন্দীর জবানবন্দী।

এসব বই পড়ে তিন ধাপের প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছে শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বাইরের পাঠকদের জন্যও রাখা হয়েছে উন্মুক্ত বিভাগ। উৎসবের প্রথম ধাপ ‘মুকুল পর্ব’। এ পর্বে উপজেলার ৩৮টি মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক ও সমমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নিচ্ছে। প্রতিটি শ্রেণির জন্য দুটি করে বই নির্ধারণ করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা একটি বই বেছে নিয়ে পড়ছে। আগামী ১৭ আগস্ট নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ পর্বের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি শ্রেণি থেকে সেরা ১০ জন শিক্ষার্থী দ্বিতীয় ধাপ ‘ফুল পর্বে’ অংশ নেবে। ৩০ ও ৩১ আগস্ট অনুষ্ঠিত হবে সেই পর্ব। পরে প্রতিটি শ্রেণির সেরা তিনজন উপজেলা পর্যায়ের ‘ফল পর্বে’ অংশ নেবে, যা অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১২ সেপ্টেম্বর। চূড়ান্ত পর্বে প্রতিটি শ্রেণির সেরা পাঠকদের জন্য রয়েছে ল্যাপটপ, বই, ক্রেস্টসহ বিভিন্ন পুরস্কার।

নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী রেদোয়ান চৌধুরী জানান, এবারের বইপড়া উৎসবে আমাদের জন্য মুহম্মদ আব্দুল হাইয়ের ‘বিলেতে সাড়ে সাতশ দিন’ বইটি নির্ধারণ করা হয়েছে। বইটি পড়ে প্রায় ৫০ বছর আগের ইংল্যান্ডের সমাজ, মানুষের জীবনযাত্রা, সংস্কৃতি ও খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে ধারণা পেয়েছি। এ ধরনের বই শুধু তথ্য দেয় না, বিশ্বের নানা দেশ ও সংস্কৃতি সম্পর্কে জানার আগ্রহও তৈরি করে।

কেয়া চন্দ নামে আরেক শিক্ষার্থী বলেন, বই পড়তে এখন ভালোই লাগে। এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে বইয়ের প্রতি আকর্ষণ জেগেছে। আমার জন্য নির্ধারিত বই পড়েছি। যেহেতু এই বইয়ের উপরে প্রতিযোগিতা তাই বার বার পড়ছি। আমাদের সহপাঠীরা বইয়ের গল্প নিয়ে কথা বলছি। এখন থেকে স্কুলের লাইব্রেরী থেকে বই নিয়ে রেগুলার পড়ব।

ভিক্টোরিয়া উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অয়ন চৌধুরী বলেন, আমি ১৯৯৬ সাল থেকে শিক্ষকতা করছি। তখন শিক্ষার্থীরা নিয়মিত স্কুল লাইব্রেরি থেকে বই নিত। এখন লাইব্রেরিতে বইয়ের সংখ্যা অনেক বেড়েছে, কিন্তু বই নেওয়ার প্রবণতা কমেছে। এর অন্যতম কারণ মোবাইল ফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রতি অতিরিক্ত আকর্ষণ। উপজেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের আবার বইয়ের কাছে ফিরিয়ে আনছে। এখন তারা নির্ধারিত বইয়ের পাশাপাশি লাইব্রেরিতে এসে অন্য বইও খুঁজছে। এটি বই পড়ার সংস্কৃতি ফিরে আসার ইতিবাচক লক্ষণ।

তিনি বলেন, এখনো অনেক অভিভাবকের ধারণা, পাঠ্যবইয়ের বাইরে অন্য বই পড়লে লেখাপড়ার ক্ষতি হয়। বাস্তবে সাহিত্য ও অন্যান্য সৃজনশীল বই পড়লে শিক্ষার্থীদের চিন্তাশক্তি, ভাষা ও বিশ্লেষণক্ষমতা বাড়ে, যা সৃজনশীল পরীক্ষায়ও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

শ্রীমঙ্গল বইপড়া উৎসবের প্রধান সমন্বয়ক ও শ্রীমঙ্গল আবৃত্তি উৎসবের নির্বাহী পরিচালক দেবাশীষ দাশ বলেন, মোবাইল ফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অতিরিক্ত ব্যবহারে শিশু-কিশোরদের পড়ার অভ্যাস কমে যাচ্ছে। সেই বাস্তবতা থেকেই ‘বই পড়ি, মন গড়ি’ প্রতিপাদ্যে এ আয়োজন। আমরা চাই শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন অন্তত ১০ থেকে ২০ মিনিট হলেও পাঠ্যবইয়ের বাইরে সাহিত্য, ইতিহাস, বিজ্ঞান ও বিশ্বসাহিত্যের বই পড়ুক। এটি শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়, বরং শিক্ষার্থীদের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলার দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ।

তিনি আরও বলেন, আমরা চাই তারা বই পড়ে নিজের মতো করে ভাবুক, আলোচনা করুক, বইয়ের সমালোচনা লিখুক। শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সহযোগিতায় শ্রীমঙ্গলে বইপড়াকে একটি সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে চাই।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিয়াউর রহমান বলেন, এ বছর শ্রীমঙ্গলের ৩৮টি মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক ও সমমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে নিয়ে ‘বই পড়ি, মন গড়ি’ প্রতিপাদ্যে বইপড়া উৎসব আয়োজন করেছি। আমাদের লক্ষ্য পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সাহিত্য, ইতিহাস, বিজ্ঞান ও বিশ্বসাহিত্যের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়ে নিয়মিত বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা। সে উদ্দেশ্যেই আমরা বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে শিক্ষার্থীদের উদ্বুদ্ধ করছি। শুরু থেকেই তারা উৎসবটি উৎসাহের সঙ্গে গ্রহণ করেছে। তারা বই কিনছে, পড়ছে, পাঠচক্র গড়ে তুলছে, বই বিনিময় করছে।

তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে তরুণদের বড় একটি অংশ স্ক্রিননির্ভর হয়ে পড়েছে। আমরা চাই তারা আবার বইয়ের জগতে ফিরে আসুক। একটি-দুটি বই হয়তো কাউকে বদলে দেবে না, কিন্তু নিয়মিত পড়ার অভ্যাস একজন মানুষকে সমৃদ্ধ করে। জ্ঞান হোক শক্তি, পাঠ হোক সংস্কৃতি এই বিশ্বাস থেকেই আমরা শ্রীমঙ্গলে বই পড়াকে একটি সামাজিক সংস্কৃতিতে পরিণত করতে চাই।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০৬:১৭:০২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬
  • / ৫১৮ বার পড়া হয়েছে
    • আপনি কি আমাদের ওয়েবসাইট এর নিয়মিত দর্শক..?

      View Results

      Loading ... Loading ...
  • পুরনো ফলাফল
    Logo
    সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
    ফজর৪:৩৮
    যোহর১১:৪৬
    আসর৪:২৬
    মাগরিব৫:৩৮
    ইশা৬:৪৯
    সূর্যোদয় :৫:৫৩সূর্যাস্ত :৫:৩৮
    স্বত্ব © ভয়েস অব শ্রীমঙ্গল
    ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD

    বইপড়া উৎসবে ফিরছে শিক্ষার্থীদের বইপড়ার অভ্যাস

    আপডেট সময় : ০৬:১৭:০২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬

    অনলাইন ডেস্ক :

    টিফিনের বিরতিতে কয়েকজন শিক্ষার্থী বসে শ্রেনীকক্ষে, তাদের কারও হাতে সৈয়দ মুজতবা আলীর দেশে বিদেশে, কারও হাতে জর্জ অরওয়েলের অ্যানিমেল ফার্ম। কেউ বা আবার পড়ছে জুল ভার্নের অ্যারাউন্ড দ্য ওয়ার্ল্ড ইন এইটি ডেজ। স্কুলের টিফিন টাইমে যেখানে হাল্কা নাস্তা শেষে খেলাধুলা ও আড্ডায় মজার কথা সেখানে শিক্ষার্থীরা অবসর সময়ে বই বই পড়ছে।

    মঙ্গলবার দুপুরে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে গিয়ে এমন চিত্রই দেখা যায়। শুধু ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাই নয়৷ পুরো উপজেলার ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে অনার্স পর্যন্ত
    ৩৮ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এর শিক্ষার্থীরা বই পড়া উতসবে অংশ নিতে নির্ধারিত বই পড়ছে।

    পাঠ্যবইয়ের গণ্ডি পেরিয়ে গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, কবিতা, ইতিহাস ও বিজ্ঞানভিত্তিক বইয়ের প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়াতে এমন উদ্যোগ নিয়েছে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রশাসন। উৎসবের সমন্বয় সহযোগী হিসেবে রয়েছে শ্রীমঙ্গল আবৃত্তি উৎসব এবং পাঠ সহযোগী হিসেবে রয়েছে উত্তরণ।

    বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বলছেন, উৎসব বা প্রতিযোগিতা যাই হোক না কেন এই একটা দুইটা বই পড়ে শিক্ষার্থীদের বই পড়ার প্রতি আকর্ষণ বাড়বে, বই পড়ার অভ্যাস তৈরী হচ্ছে।।

    আয়োজকরা জানা, বই পড়ি, মন গড়ি’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত শ্রীমঙ্গল বইপড়া উৎসব-২০২৬-এ ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে ডিগ্রি ও অনার্স পর্যায় পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্বসাহিত্য ও বাংলা সাহিত্যের ১৪টি বই নির্বাচন করা হয়েছে।

    উৎসবে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে ডিগ্রি (পাস) ও অনার্স পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বাংলা ও বিশ্বসাহিত্যের ১৪টি বই নির্বাচন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আবদুল্লাহ আল-মুতী শরফুদ্দিনের আবিষ্কারের নেশায়, ড. এ. পি. জে. আবদুল কালামের উইংস অব ফায়ার, শাহেদ আলীর জিবরাইলের ডানা, জুল ভার্নের অ্যারাউন্ড দ্য ওয়ার্ল্ড ইন এইটি ডেজ, হুমায়ুন আজাদের লাল নীল দীপাবলী বা বাঙলা সাহিত্যের জীবনী, জর্জ অরওয়েলের অ্যানিমেল ফার্ম, মুহম্মদ আব্দুল হাইয়ের বিলেতে সাড়ে সাতশ দিন, কাজী নজরুল ইসলামের মরু-ভাস্কর ও মৃত্যুক্ষুধা, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রাশিয়ার চিঠি, সৈয়দ মুজতবা আলীর দেশে বিদেশে, জহির রায়হানের আরেক ফাল্গুন, আনোয়ার পাশার রাইফেল, রোটি, আওরাত এবং বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের আরণ্যক। উন্মুক্ত বিভাগের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে কাজী নজরুল ইসলামের রাজবন্দীর জবানবন্দী।

    এসব বই পড়ে তিন ধাপের প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছে শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বাইরের পাঠকদের জন্যও রাখা হয়েছে উন্মুক্ত বিভাগ। উৎসবের প্রথম ধাপ ‘মুকুল পর্ব’। এ পর্বে উপজেলার ৩৮টি মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক ও সমমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নিচ্ছে। প্রতিটি শ্রেণির জন্য দুটি করে বই নির্ধারণ করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা একটি বই বেছে নিয়ে পড়ছে। আগামী ১৭ আগস্ট নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ পর্বের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি শ্রেণি থেকে সেরা ১০ জন শিক্ষার্থী দ্বিতীয় ধাপ ‘ফুল পর্বে’ অংশ নেবে। ৩০ ও ৩১ আগস্ট অনুষ্ঠিত হবে সেই পর্ব। পরে প্রতিটি শ্রেণির সেরা তিনজন উপজেলা পর্যায়ের ‘ফল পর্বে’ অংশ নেবে, যা অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১২ সেপ্টেম্বর। চূড়ান্ত পর্বে প্রতিটি শ্রেণির সেরা পাঠকদের জন্য রয়েছে ল্যাপটপ, বই, ক্রেস্টসহ বিভিন্ন পুরস্কার।

    নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী রেদোয়ান চৌধুরী জানান, এবারের বইপড়া উৎসবে আমাদের জন্য মুহম্মদ আব্দুল হাইয়ের ‘বিলেতে সাড়ে সাতশ দিন’ বইটি নির্ধারণ করা হয়েছে। বইটি পড়ে প্রায় ৫০ বছর আগের ইংল্যান্ডের সমাজ, মানুষের জীবনযাত্রা, সংস্কৃতি ও খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে ধারণা পেয়েছি। এ ধরনের বই শুধু তথ্য দেয় না, বিশ্বের নানা দেশ ও সংস্কৃতি সম্পর্কে জানার আগ্রহও তৈরি করে।

    কেয়া চন্দ নামে আরেক শিক্ষার্থী বলেন, বই পড়তে এখন ভালোই লাগে। এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে বইয়ের প্রতি আকর্ষণ জেগেছে। আমার জন্য নির্ধারিত বই পড়েছি। যেহেতু এই বইয়ের উপরে প্রতিযোগিতা তাই বার বার পড়ছি। আমাদের সহপাঠীরা বইয়ের গল্প নিয়ে কথা বলছি। এখন থেকে স্কুলের লাইব্রেরী থেকে বই নিয়ে রেগুলার পড়ব।

    ভিক্টোরিয়া উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অয়ন চৌধুরী বলেন, আমি ১৯৯৬ সাল থেকে শিক্ষকতা করছি। তখন শিক্ষার্থীরা নিয়মিত স্কুল লাইব্রেরি থেকে বই নিত। এখন লাইব্রেরিতে বইয়ের সংখ্যা অনেক বেড়েছে, কিন্তু বই নেওয়ার প্রবণতা কমেছে। এর অন্যতম কারণ মোবাইল ফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রতি অতিরিক্ত আকর্ষণ। উপজেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের আবার বইয়ের কাছে ফিরিয়ে আনছে। এখন তারা নির্ধারিত বইয়ের পাশাপাশি লাইব্রেরিতে এসে অন্য বইও খুঁজছে। এটি বই পড়ার সংস্কৃতি ফিরে আসার ইতিবাচক লক্ষণ।

    তিনি বলেন, এখনো অনেক অভিভাবকের ধারণা, পাঠ্যবইয়ের বাইরে অন্য বই পড়লে লেখাপড়ার ক্ষতি হয়। বাস্তবে সাহিত্য ও অন্যান্য সৃজনশীল বই পড়লে শিক্ষার্থীদের চিন্তাশক্তি, ভাষা ও বিশ্লেষণক্ষমতা বাড়ে, যা সৃজনশীল পরীক্ষায়ও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

    শ্রীমঙ্গল বইপড়া উৎসবের প্রধান সমন্বয়ক ও শ্রীমঙ্গল আবৃত্তি উৎসবের নির্বাহী পরিচালক দেবাশীষ দাশ বলেন, মোবাইল ফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অতিরিক্ত ব্যবহারে শিশু-কিশোরদের পড়ার অভ্যাস কমে যাচ্ছে। সেই বাস্তবতা থেকেই ‘বই পড়ি, মন গড়ি’ প্রতিপাদ্যে এ আয়োজন। আমরা চাই শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন অন্তত ১০ থেকে ২০ মিনিট হলেও পাঠ্যবইয়ের বাইরে সাহিত্য, ইতিহাস, বিজ্ঞান ও বিশ্বসাহিত্যের বই পড়ুক। এটি শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়, বরং শিক্ষার্থীদের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলার দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ।

    তিনি আরও বলেন, আমরা চাই তারা বই পড়ে নিজের মতো করে ভাবুক, আলোচনা করুক, বইয়ের সমালোচনা লিখুক। শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সহযোগিতায় শ্রীমঙ্গলে বইপড়াকে একটি সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে চাই।

    শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিয়াউর রহমান বলেন, এ বছর শ্রীমঙ্গলের ৩৮টি মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক ও সমমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে নিয়ে ‘বই পড়ি, মন গড়ি’ প্রতিপাদ্যে বইপড়া উৎসব আয়োজন করেছি। আমাদের লক্ষ্য পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সাহিত্য, ইতিহাস, বিজ্ঞান ও বিশ্বসাহিত্যের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়ে নিয়মিত বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা। সে উদ্দেশ্যেই আমরা বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে শিক্ষার্থীদের উদ্বুদ্ধ করছি। শুরু থেকেই তারা উৎসবটি উৎসাহের সঙ্গে গ্রহণ করেছে। তারা বই কিনছে, পড়ছে, পাঠচক্র গড়ে তুলছে, বই বিনিময় করছে।

    তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে তরুণদের বড় একটি অংশ স্ক্রিননির্ভর হয়ে পড়েছে। আমরা চাই তারা আবার বইয়ের জগতে ফিরে আসুক। একটি-দুটি বই হয়তো কাউকে বদলে দেবে না, কিন্তু নিয়মিত পড়ার অভ্যাস একজন মানুষকে সমৃদ্ধ করে। জ্ঞান হোক শক্তি, পাঠ হোক সংস্কৃতি এই বিশ্বাস থেকেই আমরা শ্রীমঙ্গলে বই পড়াকে একটি সামাজিক সংস্কৃতিতে পরিণত করতে চাই।