জুলাইয়ের চেতনা ধারণ করলে নতুন বাংলাদেশ গড়া সম্ভব: তাওহীদুল ইসলাম তুহিন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ভয়েস অব শ্রীমঙ্গল:
‘জুলাইয়ের বিপ্লবী চেতনাকে ধারণ করতে পারলে নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলা অসম্ভব নয়’ বলে মন্তব্য করে ইসলামী যুব মজলিসের কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট তাওহীদুল ইসলাম তুহিন বলেন, ২৪-এর জুলাই গণঅভ্যুত্থান শুধু এক স্বৈরাচারী শাসনের পতন ঘটায়নি; বাংলাদেশের রাষ্ট্রকাঠামো, রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং সামগ্রিক নাগরিক সচেতনতায় তা এক নতুন সমীকরণও তৈরি করেছিল। সেই অভূতপূর্ব অভ্যুত্থানের কৃতিত্ব শুধু একক কোনো ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর নয়। গণঅভ্যুত্থানের কৃতিত্ব ছাত্রজনতাসহ সর্বস্তরের মানুষের। জুলাইয়ের ক্রেডিট নিয়ে যেন দেশে আওয়ামী লীগ ফ্যাসিবাদের মতো নতুন করে ফ্যাসিবাদ মাথাচড়া দিয়ে না ওঠে সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। পাশাপাশি বৈষম্যহীন এবং একটি কল্যাণমুখি সমাজ প্রতিষ্ঠায় যুবসমাজকে দেশের নেতৃত্বে এগিয়ে আসতে হবে।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) বিকেলে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল শহরের পানসী রেস্টুরেন্টের পার্টি সেন্টারে ইসলামী যুব মজলিস শ্রীমঙ্গল উপজেলা ও পৌর শাখার আয়োজনে ‘ইতিহাসের আয়নায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান’: প্রত্যাশা-প্রাপ্তি শীর্ষক আলোচনা সভা ও যুব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
যুব মজলিসের কেন্দ্রীয় সভাপতি তাওহীদুল ইসলাম তুহিন বলেন, ফ্যাসিবাদি আওয়ামী লীগ বিগত ১৬ বছর তাদের শাসনামলে গোটা দেশকে একটি সন্ত্রাসী, দুর্নীতিবাজ, তাবেদার ও অপরাধীদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত করেছিল। মানুষের স্বাধীনতা হরণ, মৌলিক অধিকার ক্ষুণœ করা এবং একচেটিয়া শাসনের রাজনীতি জনগণের মনে ক্ষোভ তৈরি করেছিল, যার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে জুলাই আন্দোলনে। দেশের মুক্তিকামী ছাত্র-যুবক ও সাধারণ জনতা ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে ‘২৪ এর ৫ আগস্ট স্বৈরাচার সরকারের পতন ঘটিয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশে নতুন এক ইতিহাস রচনা করেছেন। ইতিহাস বলে ফ্যাসিবাদ বিদায় হলে আর ক্ষমতায় ফিরে আসেনা। এ দেশেও সেটা হবে না। তবে এই গণঅভ্যুত্থান প্রকৃত অর্থে সফল হবে তখনই, যখন জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন হবে এবং বাংলাদেশ সম্পূর্ণ বৈষম্যমুক্ত হবে এবং কল্যানমুখী সমাজ প্রতিষ্ঠিত হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন খেলাফত মজলিস মৌলভীবাজার জেলা সভাপতি শায়খুল হাদিস মাওলানা ফখরুল ইসলাম, ইসলামী যুব মজলিস মৌলভীবাজার জেলা সভাপতি মোঃ এহসানুল হক, খেলাফত মজলিস মক্কা শাখার সেক্রেটারি হাফিজ মামুনুর রশীদ মাক্কী, খেলাফত মজলিস শ্রীমঙ্গল উপজেলা সভাপতি মাওলানা আয়েত আলী প্রমুখ।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে খেলাফত মজলিসের জেলা সভাপতি মাওলানা ফখরুল ইসলাম বলেন, জুলাই চেতনার মূল কথাই ছিল সংস্কার ও দায়বদ্ধতা। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ভিত্তি ছিল তোষণমূলক ক্ষমতাচর্চা এবং একক দখলদারত্বের অবসান ঘটানো। দেশের ছাত্রজনতা আওয়ামীলীগ সংস্কৃতির উত্থান মেনে নেবে না। ’২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে যারা হাতে হাত রেখে, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ফ্যাসিবাদকে বিতাড়িত করেছিলেন, আজ তাদেরই কেউ কেউ বিভাজনের রাজনীতি করছেন। আওয়ামীলীগ ‘ফ্যাসিবাদী কর্মকাÐের বিরুদ্ধে আমরা রাজপথে লড়াই করেছি। আজ সেই একই ধরনের আধিপত্যবাদী আচরণ যদি কোনা দলের পক্ষ থেকে আসে তা বরদাশত করা হবে না। জুলাই আমাদের রাজনীতি নিয়ে ভাবতে শিখিয়েছে। জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ কওে ঐকব্যদ্ধভাবে সকল ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে ঐকবদ্ধেও বিকল্প নেই।
জেলা যুব মজলিস সভাপতি মোঃ এহসানুল হক বলেন, দুই বছর পেরিয়েও জুলাইয়ের কথা ভাবলেই বীভৎস স্মৃতিগুলো চোখের সামনে ভেসে ওঠে। রাজপথে আবু সাঈদ, মুগ্ধদের ঝরে পড়া রক্ত, পুলিশের গাড়ি থেকে ফেলে দেওয়া লাশ, চলন্ত গাড়িতে পা কেটে যাওয়ার মতো অসংখ্য মর্মান্তিক ঘটনা আজও গভীর প্রভাব ফেলে। আন্দোলনের পর দেশ কাঙ্খিত পরিবর্তনের পথে এগোয়নি; প্রত্যাশার জায়গায় রয়ে গেছে বিস্তর ঘাটতি। তাই আজকের প্রেক্ষাপটে দুর্নীতি, মাদক ও জুলুমমুক্ত রাষ্ট্র গঠনে যুবসমাজের ভুমিকার বিকল্প নেই। একটি দেশের সমাজ পরিবর্তনের জন্য এবং যেকানো কোনো বিপ্লবের জন্য যুবকদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। পৃথিবীতে যত বিপ্লব সংঘটিত হয়েছে সবক্ষেত্রে যুবকদের ভূমিকা ছিল অনন্য। যুবসমাজ একটি দেশের জন্য সম্পদ এবং সঞ্জিবনী শক্তিস্বরূপ। সুতরাং একটি কল্যাণমুখি সমাজ বিনির্মাণে দেশের বিপুল সম্ভাবনাময় যুবসমাজকে জুলাইয়ের বিপ্লবী চেতনায় এগিয়ে আসতে হবে।
হাফিজ মামুনুর রশীদ মাক্কী বলেন, ইসলামের সূচনালগ্ন থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত দ্বীন প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে যুব সমাজই অগ্রসৈনিকের ভূমিকা পালন করেছে। আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলন-সংগ্রামসহ জাতির যেকোন ক্রান্তিকালে যুব সমাজ থেকেছে আপোষহীন। তাই ন্যায় ও ইনসাফপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠায় যুব সমাজকে নেতৃত্বের জন্য যোগ্যতর করে গড়ে তুলতে হবে।
ইসলামী যুব মজলিস শ্রীমঙ্গল উপজেলা সভাপতি মুস্তাকিম আল মুনতাজ তালুকদারের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি মো. সাদিকুর রহমান এবং শ্রীমঙ্গল পৌর শাখার সভাপতি মাহমুদুল হাসান নাঈমের যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন, খেলাফত মজলিস শ্রীমঙ্গল উপজেলা সেক্রেটারি কাজী মাওলানা শিহাব উদ্দিন, ইসলামী যুব মজলিস মৌলভীবাজার জেলা সহসভাপতি এম খসরু, সহসাধারণ সম্পাদক সিহাব উদ্দিন, প্রকাশনা সম্পাদক খালিদ সাইফুল্লাহ, ইসলামী ছাত্র মজলিসের মৌলভীবাজার জেলার সাবেক সভাপতি রাফি উদ্দিন মাবরুর, সাবেক জেলা সেক্রেটারি আবিদ হাসান, প্রতিষ্ঠকালীন শ্রীমঙ্গল উপজেলা ছাত্র মজলিস সভাপতি মাওলানা দিলওয়ার হোসাইন, বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিস শ্রীমঙ্গল উপজেলা সভাপতি মোঃ মোজাহিদুল ইসলাম, সরকারি গেজেটেড জুলাইযোদ্ধা আফজাল হোসাইন, বাবুল আহমেদ, তরুণ অ্যক্টিভিস্ট আবু সুফিয়ান রায়হান, সংগঠক তারেকুল ইসলাম তারেক, ইসলামী শ্রমিক মজলিস শ্রীমঙ্গল উপজেলা সভাপতি মাসুদ রানা, ইসলামী ছাত্র মজলিস শ্রীমঙ্গল উপজেলা সেক্রটারি মোস্তাফিজুর রহমান, শ্রীমঙ্গল পৌর শাখার সেক্রেটারি শেখ সাদী প্রমুখ।
সভায় অন্যান্য বক্তারা বলেন, বৈষম্যহীন রাষ্ট্র ও অসুস্থ ধারার রাজনীতির পরিবর্তনের স্বপ্ন নিয়ে ২৪-এর জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রাস্তায় নেমেছিল সাধারণ মানুষ। দুই বছর পর সে স্বপ্নের কতটা বাস্তবায়ন হয়েছে এটি এখন বড় প্রশ্ন। জুলাইয়ের অনুপ্রেরণা ছিল অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাহস। জুলাই-পরবর্তী সময়ে পরিবর্তনের কথা বলা হলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন খুবই সীমিত। নিরাপত্তাহীনতা ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধ করে দ্রæত জুলাইসহ সকল হত্যাকান্ডের খুনীদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
অনুষ্ঠানে আলোচনা সভায় ইসলামী ছাত্র মজলিস মৌলভীবাজার জেলা শাখার সাবেক সভাপতি, সাবেক জেলা সেক্রেটারি, শ্রীমঙ্গল উপজেলার সাবেক সভাপতি, শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজের সাবেক সভাপতি ও কবি ও ছড়াকার হাসান মাহমুদসহ বেশ কয়েকজন যুবক ইসলামী যুব মজলিসের আদর্শের সাথে একমত হয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রাথমিক সদস্য ফরম পুরণ করে যুব মজলিসে যোগ দেন।












