1. admin@voiceofsreemangal.com : নিজস্ব প্রতিবেদক :
শ্রীমঙ্গল ০৩:৪৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞপ্তি :
অনলাইন সংবাদমাধ্যম ‘ভয়েস অব শ্রীমঙ্গল’ এ আপনাকে স্বাগতম। দেশব্যাপী জেলা, উপজেলা ও ক্যাম্পাস (মাদরাসা-কলেজ) প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। আগ্রহীরা যোগাযোগ করুন- ০১৬০১-৬০৮৬৮৮।

শাল্লায় ভয়াবহ নদীভাঙনের নেপথ্যে অবৈধ ড্রেজার চক্রের দৌরাত্ম্য

সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:

সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় কুশিয়ারা নদীর তীরজুড়ে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক হলেও ফয়েজুল্লাহপুর ও মার্কুলি বাজারের মধ্যবর্তী স্থানে রাত–দিন চলছে অবৈধ ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন। স্থানীয়দের অভিযোগ—মার্কুলি নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির প্রত্যক্ষ সহযোগিতায়ই চলছে এই ‘বিটবালু লুট’, যা নদীভাঙনকে আরও মারাত্মক করে তুলছে।

বর্ষা শেষে শাল্লা থেকে আকিল-শা বাজার পর্যন্ত বহু এলাকায় নদীর পাড় দ্রুত ভাঙতে শুরু করেছে। শত শত বসতবাড়ি ও ফসলি জমি হুমকির মুখে থাকা সত্ত্বেও ভাঙনকবলিত স্থান থেকে মাত্র ১ কিলোমিটার দূরে দুটি বড় ড্রেজার বসিয়ে অব্যাহতভাবে বালু তোলা হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রভাবশালী মঈনউদ্দীন মেম্বারের সহযোগিতায় একটি চক্র নিয়মিত ড্রেজার পরিচালনা করে লক্ষ লক্ষ টাকার বালু উত্তোলন করছে। অপরিকল্পিতভাবে নদীর তলদেশ খুঁড়ে বালু তোলার কারণে নদীর গভীরতা ও স্রোতের গতিপথ বদলে গিয়ে ভাঙন আরও বাড়ছে।

মঈনউদ্দীন মেম্বার দাবি করেন, “বিগত দিনেও মোতাহার নদী থেকে বালু তুলেছে। গভীর রাতেও তাকে ড্রেজার চালিত নৌকার সামনে দেখেছি।” তবে তিনি পরে ফোন করে আরেক ব্যক্তি সোহেলকে দায়ী করার চেষ্টা করেন এবং সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য অনুরোধ জানান।

অন্যদিকে মোতাহার আলী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আগে করেছি ঠিকই, কিন্তু সাজা খেটে এসেছি। এখন প্রতিদিন মঈনউদ্দীন মেম্বার, ফজল আর মিঠু ড্রেজার চালাচ্ছে।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, পুলিশ অভিযানে গেলেও রহস্যজনক কারণে ড্রেজারচালকদের ছেড়ে দেয়।

গ্রামবাসীর অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দু—মার্কুলি নৌ-পুলিশ ফাঁড়ি। দুইটি ড্রেজার ফাঁড়ির অল্প দূরেই চললেও পুলিশ ‘কানাকানিও করছে না’ বলে দাবি করেন স্থানীয়রা।

এক ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দা বলেন, “আমরা প্রতিদিন ভাঙনের ভয় নিয়ে ঘুমাই। আর পুলিশ ফাঁড়ির সামনে নদীটাকে শেষ করে দিচ্ছে লুটেরারা। বোঝাপড়া না থাকলে এভাবে চলতে পারে না।”

মার্কুলি নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক কাওসার গাজী বলেন, “বালু উত্তোলনের বিষয়টি আমাদের জানা নাই। কেউ তথ্য দিলে ব্যবস্থা নেব।” অপরদিকে শাল্লা থানার ওসি শফিকুর রহমান জানান, “বিষয়টি শুনেই রাতে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল, কিন্তু কাউকে পাওয়া যায়নি। অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চলবে।”

পরিবেশবিদরা বলছেন, কুশিয়ারা নদী হাওর অঞ্চলের কৃষি, মৎস্য ও পরিবেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এভাবে অবাধ ড্রেজিং চলতে থাকলে নদীর প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে হাওর অঞ্চলে ভয়াবহ পরিবেশগত বিপর্যয় দেখা দেবে।

নদীভাঙন ও অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত শত শত পরিবার প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
তাদের দাবি— অবৈধ ড্রেজার বন্ধ, পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্ত, নদীভাঙন রোধে জরুরি প্রকল্প গ্রহণ।

এলাকাবাসীর মতে, এখনই কঠোর ব্যবস্থা না নিলে পুরো শাল্লা উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা নদীভাঙনে বিলীন হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০৮:৩৯:২৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ নভেম্বর ২০২৫
  • / ৭০৭ বার পড়া হয়েছে
Logo
বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ফজর৪:৩৮
যোহর১১:৪৬
আসর৪:২৬
মাগরিব৫:৩৮
ইশা৬:৪৯
সূর্যোদয় :৫:৫৩সূর্যাস্ত :৫:৩৮
স্বত্ব © ভয়েস অব শ্রীমঙ্গল
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD

শাল্লায় ভয়াবহ নদীভাঙনের নেপথ্যে অবৈধ ড্রেজার চক্রের দৌরাত্ম্য

আপডেট সময় : ০৮:৩৯:২৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ নভেম্বর ২০২৫

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:

সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় কুশিয়ারা নদীর তীরজুড়ে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক হলেও ফয়েজুল্লাহপুর ও মার্কুলি বাজারের মধ্যবর্তী স্থানে রাত–দিন চলছে অবৈধ ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন। স্থানীয়দের অভিযোগ—মার্কুলি নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির প্রত্যক্ষ সহযোগিতায়ই চলছে এই ‘বিটবালু লুট’, যা নদীভাঙনকে আরও মারাত্মক করে তুলছে।

বর্ষা শেষে শাল্লা থেকে আকিল-শা বাজার পর্যন্ত বহু এলাকায় নদীর পাড় দ্রুত ভাঙতে শুরু করেছে। শত শত বসতবাড়ি ও ফসলি জমি হুমকির মুখে থাকা সত্ত্বেও ভাঙনকবলিত স্থান থেকে মাত্র ১ কিলোমিটার দূরে দুটি বড় ড্রেজার বসিয়ে অব্যাহতভাবে বালু তোলা হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রভাবশালী মঈনউদ্দীন মেম্বারের সহযোগিতায় একটি চক্র নিয়মিত ড্রেজার পরিচালনা করে লক্ষ লক্ষ টাকার বালু উত্তোলন করছে। অপরিকল্পিতভাবে নদীর তলদেশ খুঁড়ে বালু তোলার কারণে নদীর গভীরতা ও স্রোতের গতিপথ বদলে গিয়ে ভাঙন আরও বাড়ছে।

মঈনউদ্দীন মেম্বার দাবি করেন, “বিগত দিনেও মোতাহার নদী থেকে বালু তুলেছে। গভীর রাতেও তাকে ড্রেজার চালিত নৌকার সামনে দেখেছি।” তবে তিনি পরে ফোন করে আরেক ব্যক্তি সোহেলকে দায়ী করার চেষ্টা করেন এবং সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য অনুরোধ জানান।

অন্যদিকে মোতাহার আলী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আগে করেছি ঠিকই, কিন্তু সাজা খেটে এসেছি। এখন প্রতিদিন মঈনউদ্দীন মেম্বার, ফজল আর মিঠু ড্রেজার চালাচ্ছে।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, পুলিশ অভিযানে গেলেও রহস্যজনক কারণে ড্রেজারচালকদের ছেড়ে দেয়।

গ্রামবাসীর অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দু—মার্কুলি নৌ-পুলিশ ফাঁড়ি। দুইটি ড্রেজার ফাঁড়ির অল্প দূরেই চললেও পুলিশ ‘কানাকানিও করছে না’ বলে দাবি করেন স্থানীয়রা।

এক ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দা বলেন, “আমরা প্রতিদিন ভাঙনের ভয় নিয়ে ঘুমাই। আর পুলিশ ফাঁড়ির সামনে নদীটাকে শেষ করে দিচ্ছে লুটেরারা। বোঝাপড়া না থাকলে এভাবে চলতে পারে না।”

মার্কুলি নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক কাওসার গাজী বলেন, “বালু উত্তোলনের বিষয়টি আমাদের জানা নাই। কেউ তথ্য দিলে ব্যবস্থা নেব।” অপরদিকে শাল্লা থানার ওসি শফিকুর রহমান জানান, “বিষয়টি শুনেই রাতে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল, কিন্তু কাউকে পাওয়া যায়নি। অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চলবে।”

পরিবেশবিদরা বলছেন, কুশিয়ারা নদী হাওর অঞ্চলের কৃষি, মৎস্য ও পরিবেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এভাবে অবাধ ড্রেজিং চলতে থাকলে নদীর প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে হাওর অঞ্চলে ভয়াবহ পরিবেশগত বিপর্যয় দেখা দেবে।

নদীভাঙন ও অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত শত শত পরিবার প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
তাদের দাবি— অবৈধ ড্রেজার বন্ধ, পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্ত, নদীভাঙন রোধে জরুরি প্রকল্প গ্রহণ।

এলাকাবাসীর মতে, এখনই কঠোর ব্যবস্থা না নিলে পুরো শাল্লা উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা নদীভাঙনে বিলীন হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।